গুলিকাণ্ডে চরম নাটকীয়তা, বিহারের সেই বিখ্যাত খান স্যর অবশেষে আদালতে!

পাটনার মসুল্লাপুর হাট এলাকার চাঞ্চল্যকর কোচিং সেন্টারে গুলিকাণ্ডের ঘটনায় নতুন মোড়। অস্ত্র মামলায় জড়িয়ে অবশেষে শনিবার পাটনা সিভিল কোর্টে হাজির হলেন প্রখ্যাত শিক্ষক তথা জনপ্রিয় ইউটিউবার ফয়জল খান ওরফে ‘খান স্যর’। গত ৫ জুন পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার পর থেকেই এই মামলায় তাঁর গ্রেপ্তারির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। এই পরিস্থিতির মাঝেই শনিবার কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে তিনি আদালতে উপস্থিত হন। তাঁর আইনজীবীর দাবি, আদালতে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছেন খান স্যর, তবে স্থানীয় মহলে এটি আত্মসমর্পণ বলেই চর্চা হচ্ছে।
কোচিং মাফিয়া বনাম সস্তা শিক্ষা, সংঘাতের নেপথ্যে কী?
গোটা ঘটনার সূত্রপাত গত ২ জুন। পাটনার মসুল্লাপুর হাট এলাকায় খান স্যরের কোচিং সেন্টারের বাইরে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অশান্তির একপর্যায়ে সেখানে গুলি চলে এবং একজন নিরাপত্তারক্ষী আহত হন। এই ঘটনার প্রতিবাদে শয়ে শয়ে পড়ুয়া রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিপুল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। খান স্যরের প্রাথমিক দাবি ছিল, তিনি অত্যন্ত কম খরচে গরিব পড়ুয়াদের শিক্ষা দেন বলেই ক্ষুব্ধ প্রতিদ্বন্দ্বী ‘কোচিং মাফিয়ারা’ তাঁর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার ষড়যন্ত্র করছে এবং এই হামলার নেপথ্যে তারাই রয়েছে।
পুলিশি তদন্ত ও বিহারের শিক্ষা মহলে সম্ভাব্য প্রভাব
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে পাটনার কোচিং ইনস্টিটিউটগুলোর এই অভ্যন্তরীণ রেষারেষি বহুদিনের। ইতিমধ্যেই এই সংঘর্ষের জেরে অন্য একটি ইনস্টিটিউটের (জ্ঞান বিন্দু) পরিচালক রোশন আনন্দ এবং তাঁর দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সাথে খান স্যরের দুজন দেহরক্ষীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার ফলে এই ঘটনায় মোট গ্রেপ্তারির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে নিরাপত্তারক্ষীরা দাবি করেছে যে, সংঘর্ষের সময় খান স্যরের নির্দেশেই তাঁরা পাল্টা গুলি চালিয়েছিলেন।
এই ঘটনার ফলে পাটনার কোটি কোটি টাকার কোচিং ব্যবসায়িক মহলে এক বড়সড় ধাক্কা লাগতে পারে। বিখ্যাত একজন শিক্ষকের নাম সরাসরি গুলিকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং কোচিং পাড়ায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ আগামী দিনে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।