রিলস তৈরির নেশাই ডেকে আনল চরম বিপর্যয়, ব্রিজে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত ১

সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য ছোট ভিডিও ক্লিপ বা ‘রিলস’ তৈরির মারাত্মক নেশা আরও একটি তরতাজা প্রাণ কেড়ে নিল। মালদহের পুখুরিয়া থানার পীরগঞ্জ এলাকায় মহানন্দা নদীর ব্রিজে ভিডিও বানাতে গিয়ে নদীগর্ভে পড়ে মৃত্যু হলো অর্ক ঘোষ (১৮) নামের এক যুবকের। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে জীবনের সঙ্গে লড়াই করছেন তাঁর আরও তিন বন্ধু। মৃত ও আহত যুবকদের বাড়ি পুরাতন মালদহের মঙ্গলবাড়ি এলাকায়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রিলস বানানোর অসাবধানতাই মূল কারণ
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অর্ক তাঁর তিন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে পীরগঞ্জের মহানন্দা ব্রিজে রিলস ভিডিও তৈরি করতে গিয়েছিলেন। ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে মোবাইল ক্যামেরার সামনে ভিডিও করার সময় আচমকাই অসাবধানতাবশত চার বন্ধু পা পিছলে সোজা নদীতে পড়ে যান। নদীর প্রবল স্রোতের মুখে পড়ে তাঁরা বাঁচার জন্য চিৎকার করতে শুরু করেন। সেই সময় জমিতে কাজে যাওয়ার পথে মনোরানি নামের এক স্থানীয় মহিলা তাঁদের চিৎকার শুনতে পান এবং দ্রুত গ্রামবাসীদের খবর দেন। স্থানীয় বাসিন্দারা কালবিলম্ব না করে নদীতে নেমে উদ্ধারকাজ শুরু করেন।
উদ্ধারকাজ ও সম্ভাব্য প্রভাব
স্থানীয়দের তৎপরতায় তিনজনকে জীবিত অবস্থায় নদী থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, স্রোতের টানে তলিয়ে যান অর্ক ঘোষ। পরবর্তীতে কয়েক ঘণ্টার ব্যাপক তল্লাশির পর নদী থেকে অর্কর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। আহত তিন বন্ধুর মধ্যে দু’জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এই দুর্ঘটনার পর জনবহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতুগুলোতে প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য বিপজ্জনক স্থানে ভিডিও তৈরির এই প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। এই ধরনের দুর্ঘটনা রুখতে আগামীদিনে পুলিশি টহলদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।