সোনারপুরে হামলার পর কি কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা চাইলেন অভিষেক, জল্পনা উড়িয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রকে তীব্র নিশানা তৃণমূল নেতার

সোনারপুরে হামলার পর কি কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা চাইলেন অভিষেক, জল্পনা উড়িয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রকে তীব্র নিশানা তৃণমূল নেতার

দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে আক্রান্ত হওয়ার পর কেন্দ্রের কাছে কোনও ‘সেন্ট্রাল সিকিউরিটি’ বা কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা চেয়েছেন— সংবাদমাধ্যমের একাংশের এই জল্পনা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ একটি দীর্ঘ পোস্টে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার পাশাপাশি নিজের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার এবং মোদী সরকার উভয় পক্ষকেই তীব্র নিশানা করেছেন ডায়মন্ড হারবারের বিদায়ী সাংসদ। এদিন তিনি সাফ জানান, হামলার পর গত সাত দিনে তিনি কোনও নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য আবেদন জানাননি।

সোনারপুরের নজিরবিহীন হামলা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের শোচনীয় পরাজয়ের পর গত ৩০ মে প্রথমবার সোনারপুরে এক দলীয় কর্মসূচিতে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গাড়ি থেকে নামার সময়ই একদল উত্তেজিত জনতা তাঁকে ঘিরে ধরে ডিম ও পাথর ছুঁড়তে শুরু করে। এমনকি বেশ কয়েকজন তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করারও চেষ্টা চালায়। সে সময় মাথায় হেলমেট থাকায় একটি বড় পাথরের আঘাত থেকে রক্ষা পান তিনি, যার একাধিক ভিডিও ফুটেজ ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে। নিজের ওপর হওয়া এই নজিরবিহীন হামলা প্রসঙ্গে রাজ্যের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতা। তাঁর সুরক্ষায় গলদ থাকার জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য দুই প্রশাসনকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে তিনি বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় সরকারের নজরদারির মধ্যেই এই ঘটনা ঘটেছে এবং এর পেছনের পরিস্থিতি নিয়ে তাঁদের গুরুতর প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।

সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় অগ্রাধিকারের দাবি

নিজের নিরাপত্তার চেয়েও সাধারণ মানুষের সুরক্ষাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া উচিত মন্তব্য করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে উল্লেখ করেন, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, গত এক মাসে পশ্চিমবঙ্গে সাধারণ নাগরিকদের ওপর অজস্র ধর্ষণ ও অন্যান্য ভয়াবহ অপরাধের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে অনেকগুলিই সংবাদমাধ্যমে উঠে আসেনি। এই পরিস্থিতিতে যাঁরা ক্ষমতায় রয়েছেন, তাঁদের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা। রাজনৈতিক স্বার্থে বিভ্রান্তিকর খবর না ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা দিতে রাজ্য ও কেন্দ্রের সমস্ত নিরাপত্তা সংস্থাকে অনুরোধ জানিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। এই ঘটনার পর রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বিরোধী নেতাদের নিরাপত্তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *