সই বিতর্কে নতুন মোড়: প্রকাশ্যে বিতর্কিত চিঠির নথিপত্র, কার সই নিয়ে জল্পনা?
June 6, 20269:01 pm

রাজ্য রাজনীতিতে বর্তমানে যে সই বিতর্ক নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে, সেই চিঠির নথিপত্র এবং কার্যবিবরণী প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি আরও জটিল মোড় নিয়েছে। এই পুরো বিতর্কের মূল বিষয়গুলো নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু:
- দুটি তারিখ ও সইয়ের গরমিল: বিতর্ক মূলত ৬ মে এবং ১৯ মে-র বিধায়কদের সই করা দুটি ভিন্ন নথিপত্র বা রেজ়োলিউশনকে ঘিরে।
- অভিযোগের সূত্রপাত: ২০ মে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের কাছে ৭০ জন বিধায়কের সই করা রেজ়োলিউশন কপি জমা দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা স্পিকারের কাছে অভিযোগ জানান যে, তাঁদের সইয়ের ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে।
- তদন্ত: স্পিকারের নির্দেশে হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের হয়। বর্তমানে সিআইডি (CID)-র একটি ডিআইজির নেতৃত্বে গঠিত সিট (SIT) পুরো বিষয়টি তদন্ত করছে এবং হস্তলিপি বিশেষজ্ঞদের দিয়ে সই যাচাই করা হচ্ছে।
নথিতে যা সামনে এল:
- ব্লক লেটার বনাম সাধারণ স্বাক্ষর: প্রকাশিত নথিতে দেখা যাচ্ছে, মহেশতলার বিধায়ক শুভাশিস দাস, খড়্গপুরের দীনেন রায়, বোলপুরের চন্দ্রনাথ সিনহা, ক্যানিং পূর্বের বাহারুল ইসলাম, রতুয়ার সমর মুখোপাধ্যায়, উলুবেড়িয়া পূর্বের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, এন্টালির সন্দীপন সাহা, চৌরঙ্গির নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ বেশ কয়েকজন বিধায়ক ব্লক লেটারে নাম লিখেছেন।
- অসঙ্গতি: ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা ৬ তারিখের নথিতে ব্লক লেটারে নাম লিখলেও নিচে সাধারণ স্বাক্ষরও করেছিলেন, যা ১৯ তারিখের সইয়ে ছিল না।
- উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন: ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বাহারুল ইসলাম দাবি করেছেন, ৬ তারিখের বৈঠকে তিনি উপস্থিত ছিলেন না, বাড়িতে ছিলেন। অথচ সেই নথিতে তাঁর সই থাকা নিয়ে বড় প্রশ্ন চিহ্ন তৈরি হয়েছে।
বর্তমান রাজনৈতিক ও আইনি পরিস্থিতি:
বর্তমানে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পরিবর্তে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে কাজ করছেন। তবে এই সই জালিয়াতি বা অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা রাজ্যের বিরোধী রাজনীতির সমীকরণ এবং সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের ভবিষ্যতের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সিআইডি এই ঘটনার তদন্তে ‘দুধ কা দুধ, জল কা জল’ করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।