চোখে-মুখে বয়সের ছাপ, মমতার রূপচর্চার জল্পনা কি সত্যি? মুখ খুললেন কেয়া শেঠ

চোখে-মুখে বয়সের ছাপ, মমতার রূপচর্চার জল্পনা কি সত্যি? মুখ খুললেন কেয়া শেঠ

সাদা শাড়ি, পায়ে হাওয়াই চপ্পল আর কাঁধে শান্তিনিকেতনী ব্যাগ— এটাই চিরকাল তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিগনেচার স্টাইল। ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী হওয়া পর্যন্ত তাঁর পোশাকে কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই কলকাতার বিখ্যাত কসমেটোলজিস্ট কেয়া শেঠের কালীঘাটে গিয়ে মমতার রূপচর্চা করার একটি জল্পনা দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য রাজনীতিতে কান পাতলেই শোনা যেত। ২০২৬-এর নির্বাচনে তৃণমূলের বিপুল হারের পর এবার এই বিষয়ে প্রথমবার মুখ খুললেন কেয়া শেঠ।

মমতার রূপচর্চার জল্পনা কি সত্যি?

নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোখে-মুখে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট। রাজনৈতিক মহলের একাংশের জল্পনা, হারের ধাক্কায় কি তবে রূপচর্চাও বন্ধ করে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী? এই প্রশ্ন শুনে হেসে উড়িয়ে দেন কেয়া। তিনি স্পষ্ট জানান, “এটা সম্পূর্ণ মিথ। ২০১১ সালে তিনি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে একটি মিডিয়া হাউস আমার কাছে রাজনীতিকদের রূপচর্চার টিপস নিতে এসেছিল। সেটাকেই রং চড়িয়ে গুজব ছড়ানো হয় যে আমি নাকি তাঁর মেকআপ আর্টিস্ট!”

‘আমি আগেও ছিলাম না, এখনও নেই’

নির্বাচনে তৃণমূলের হারের পর অনেকেই যখন দলবদল করছেন, তখন কেয়া শেঠ নিজের অবস্থানে অনড়। তিনি সাফ জানিয়েছেন, “আমি আগেও তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে ছিলাম না, এখনও নেই। কেউ যেন না ভাবেন তিনি হেরেছেন বলে আমি পাল্টি খাচ্ছি।” তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই বলেই দাবি করেন তিনি।

‘আমার অনেক কাজ আটকে রেখেছে পূর্বতন সরকার’

তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার দাবি যে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, তা বোঝাতে কেয়া শেঠ নিজের ব্যবসার কিছু উদাহরণ টেনে আনেন। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর কালীঘাটের মলের সামনে ডাস্টবিন তৈরি করা হয়েছে এবং বারুইপুর ও সিঙ্গুরে তাঁর একাধিক প্রোজেক্ট সরকারি অসহযোগিতার কারণে আটকে রয়েছে। তাঁর কথায়, “ওঁনার সঙ্গে আমার ওঠাবসা থাকলে এই সমস্যাগুলো সহজেই সমাধান হয়ে যেত।”

তবে হারের মানসিক ধাক্কা যে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর চেহারায় প্রভাব ফেলেছে, সে কথা মেনে নিয়েছেন কেয়া। পাশাপাশি, নতুন সরকারের প্রতি তাঁর আশা ব্যক্ত করে তিনি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে বাংলায় শিল্পের অনুকূল পরিবেশ তৈরির আবেদন জানিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *