জোড়াসাঁকোয় কাউন্সিলরকে বাড়ি থেকে তুলেই নিয়ে গেল পুলিশ, ছোট লালবাড়িতে অষ্টম গ্রেফতারি

কলকাতা পুরসভার ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মহম্মদ জসিমউদ্দিনকে রবিবার সকালে তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা অপেক্ষার পর পুলিশের একটি দল তালা ভেঙে তাঁর বাসভবনে প্রবেশ করে এবং তাঁকে আটক করে নিয়ে যায়। পকসো আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক কঠোর ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। এই গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে এলাকা জুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
অভিযোগের নেপথ্যে পুরনো হেনস্থার ঘটনা
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় তিন বছর আগে এলাকার এক নাবালিকাকে হেনস্থার ঘটনায় কাউন্সিলর জসিমউদ্দিনের ঘনিষ্ঠদের নাম জড়িয়েছিল। বর্তমানে সেই ভুক্তভোগী তরুণী কলেজছাত্রী। অভিযোগ, শনিবার ফের তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় এবং পুরনো মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। তরুণীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়েরের পরেই সক্রিয় হয় পুলিশ। কাউন্সিলর ছাড়াও এই ঘটনায় আরও পাঁচ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ইতিমধ্যে তাঁর ঘনিষ্ঠ এক সহযোগীকেও পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়
রবিবার ভোর থেকেই কাউন্সিলরের বাড়ির সামনে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের উপস্থিতিতে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়। স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী ও সমর্থকদের জমায়েত ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও শেষ পর্যন্ত জসিমউদ্দিনকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সরিয়ে নিয়ে যায় পুলিশ। প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে সিপিএম ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়া এই কাউন্সিলর দলবদলের রাজনীতির পাশাপাশি সাংগঠনিক নানা কর্মকাণ্ডে বারংবার শিরোনামে উঠে এসেছেন। তবে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, বর্তমান পরিস্থিতির প্রভাব পুরসভার অন্দরে দলের অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। এছাড়া, শনিবার রাতে পাটুলির ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তের গ্রেফতারির পরপরই জসিমউদ্দিনের এই পরিণতিতে শহরজুড়ে শোরগোল পড়েছে। ছোট লালবাড়িতে এটি অষ্টম কাউন্সিলরের গ্রেফতারি হওয়ায় পুরপ্রশাসনিক মহলেও চরম অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।