বিশ্বকাপের মুখে রণক্ষেত্র মেক্সিকো, ফুটবলারদের মূর্তি পুড়িয়ে শিক্ষকদের নজিরবিহীন প্রতিবাদ!

বিশ্বকাপের মুখে রণক্ষেত্র মেক্সিকো, ফুটবলারদের মূর্তি পুড়িয়ে শিক্ষকদের নজিরবিহীন প্রতিবাদ!

বিশ্বকাপ ফুটবলের মহাযজ্ঞ শুরু হতে বাকি আর মাত্র চার দিন। ঠিক এই সময়েই তীব্র গণবিক্ষোভের জেরে কার্যত অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে অন্যতম আয়োজক দেশ মেক্সিকোতে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে অবহেলা করে ফুটবলের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয়ের অভিযোগে রাস্তায় নেমেছেন দেশটির হাজার হাজার শিক্ষক। পরিস্থিতি এতটাই চরম রূপ নিয়েছে যে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্থাপন করা ফুটবলারদের বিশালাকার মূর্তি উপড়ে ফেলে, তা বিবস্ত্র করে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছেন আন্দোলনকারীরা। ‘বিশ্বকাপের বল গড়াতে দেওয়া হবে না’— এই হুঙ্কার দিয়ে মেক্সিকোর রাস্তা স্তব্ধ করে দিয়েছেন অন্তত ১২ হাজার শিক্ষক।

বিক্ষোভের মূল কারণ ও সরকারের অনড় অবস্থান

শিক্ষকদের এই নজিরবিহীন ক্ষোভের নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বঞ্চনা। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বর্তমান সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মেনে তাঁদের ন্যায্য বেতন ও পেনশন সুনিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। অথচ দেশের মূল শিক্ষা খাতের পরিকাঠামো উন্নয়নকে পুরোপুরি বুড়ো আঙুল দেখিয়ে স্টেডিয়াম নির্মাণ ও বিশ্বকাপের ফ্যান জোন তৈরিতে জলের মতো টাকা ওড়াচ্ছে প্রশাসন। শিক্ষকদের এই আন্দোলন দমনে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের হটাতে কাঁদানে গ্যাস ও রবারের বুলেট ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে, যার জেরে বেশ কয়েকজন শিক্ষক গুরুতর আহত হয়েছেন এবং একজন দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। যদিও মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাম সাফ জানিয়েছেন, কোনো চাপের মুখে প্রশাসন মাথা নত করবে না।

সামাজিক অসন্তোষ ও বিশ্বকাপের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

মেক্সিকোর এই অশান্ত পরিস্থিতি কেবল শিক্ষকদের আন্দোলনেই সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্বকাপের এই আন্তর্জাতিক মঞ্চকে নিজেদের দাবি আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে অন্যান্য সামাজিক ও অধিকার রক্ষা সংগঠনগুলিও। পশুপীড়ন বিরোধী সংস্থার পাশাপাশি দেশে নিখোঁজ হওয়া প্রায় এক লক্ষ মানুষের পরিবারের সদস্যরাও এই বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন। দফায় দফায় সরকারের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় টুর্নামেন্ট চলাকালীনও বড়সড় বিক্ষোভের পরিকল্পনা রয়েছে আন্দোলনকারীদের। এর ফলে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলির নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক মহলে দেশের ভাবমূর্তি নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং খেলাগুলি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে মেগা টুর্নামেন্ট চলাকালীন স্টেডিয়াম ও সংলগ্ন এলাকায় নজিরবিহীন বিপুল পুলিশবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেক্সিকো সরকার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *