এবার কি দলীয় প্রতীক হাতছাড়া হতে পারে তৃণমূলের, সোমবার হাইকোর্টে নজিরবিহীন আইনি লড়াই!

এবার কি দলীয় প্রতীক হাতছাড়া হতে পারে তৃণমূলের, সোমবার হাইকোর্টে নজিরবিহীন আইনি লড়াই!

বিধানসভা নির্বাচনে নজিরবিহীন ভরাডুবির পর এবার তীব্র অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দল কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং কারা ‘আসল তৃণমূল’, তা নিয়ে মমতাপন্থী ও ঋতব্রতপন্থীদের টানাপোড়েন এখন আদালত পর্যন্ত গড়াচ্ছে। সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে এই সংক্রান্ত মামলার পাশাপাশি দিল্লি ও কলকাতার রাজনীতিতে এক চরম নাটকীয় মোড় আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, শেষ পর্যন্ত দলের নির্বাচনী প্রতীকও হাতছাড়া হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

দলীয় কোন্দল ও সই জালিয়াতির অভিযোগ

নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর দলের অন্দরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের ভুল নিয়ে সরব হন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহা সহ একাধিক নেতা-বিধায়ক। কালীঘাটের বৈঠকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঘোষণার পর বিধানসভায় সই জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে মূল বিতর্কের সূত্রপাত হয়। সত্তর জন বিধায়কের সই সংবলিত যে তালিকা জমা দেওয়া হয়েছিল, তার সঙ্গে পূর্বের সইয়ের গরমিল মেলায় বিধানসভার সচিব থানায় এফআইআর করেন, যার তদন্ত করছে সিআইডি। ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বাহারুল ইসলাম প্রকাশ্যেই তাঁর সই জালিয়াতির অভিযোগ তোলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তরের কর্মীদের বিরুদ্ধে। এর পরেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ‘আসল তৃণমূল’ গঠন করে পাল্টা বিরোধী দলনেতা হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়, যা বাংলার রাজনীতিতে নজিরবিহীন।

প্রতীক হারানোর আশঙ্কা ও রাজনৈতিক প্রভাব

এই চরম সংকটের মুখে দল বাঁচাতে আসরে নেমেছেন স্বয়ং তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বিদ্রোহীদের ক্ষোভ প্রশমনে যেমন নিজে উদ্যোগী হয়েছেন, তেমনই দলের সাংগঠনিক স্তরে বড় বদল এনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একচ্ছত্র ক্ষমতা হ্রাস করেছেন। অভিষেকের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং দোলা সেনের মধ্যে। বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে অবস্থান করছেন এবং সোমবার রাজধানীতে রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকে নজর সবার। অন্যদিকে, ঋতব্রত শিবির অত্যন্ত কৌশলী অবস্থান নিয়েছে। সোমবার আদালতের রায়ের ওপর ভিত্তি করে তারা আইনি পথে দলীয় প্রতীকের দাবি জানাতে পারে বলে গুঞ্জন তীব্র হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন আইনি লড়াইয়ে দলের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, তেমনই রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ অস্তিত্ব বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *