বান্ধবীই পাতল ফাঁদ, দুর্গাপুরে নাবালিকাকে মদ্যপান করিয়ে গণধর্ষণের ঘটনায় তোলপাড়!

পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরে এক অষ্টম শ্রেণীর নাবালিকাকে হোটেলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণের নৃশংস ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। এই ঘটনায় সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো নির্যাতিতার নিজের বান্ধবীর ভূমিকা। অভিযোগ উঠেছে, ওই বান্ধবীই নাবালিকাকে ফুঁসলিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে অপরাধীদের হাতে তুলে দেয়। বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় নির্যাতিতা নাবালিকা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বান্ধবীর বিশ্বাসঘাতকতা ও অপরাধের ধরন
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুদবুদ থানা এলাকার বাসিন্দা ওই নাবালিকাকে তার এক বান্ধবী প্রথমে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তাকে একটি গাড়িতে তুলে জোরপূর্বক ওষুধ মেশানো মদ খাইয়ে বেহুঁশ করে দেওয়া হয়। অচেতন অবস্থায় তাকে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের কবিগুরু এলাকার একটি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাজ মল্লিক ও শেখ আজারুদ্দিনসহ তিন যুবক নাবালিকার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ। ঘটনা শেষে গভীর রাতে নির্যাতিতাকে বুদবুদ বাইপাস এলাকায় ফেলে রেখে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে এক টোটো চালক তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দিলে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন।
পুলিশি পদক্ষেপ ও সামাজিক প্রভাব
নাবালিকার পরিবারের পক্ষ থেকে দুর্গাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, এই ঘটনার মূল চক্রী ওই বান্ধবীসহ তিন অভিযুক্তকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে আদালতে পেশ করা হবে। এই ঘটনাটি স্থানীয় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে এবং পরিচিত মহলে এভাবে বিশ্বাসের অমর্যাদা করে অপরাধ সংঘটিত করার প্রবণতা সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে।