ট্রেনের খাবারে আর কোনও অভিযোগ নয়! পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতে আইআরসিটিসির এআই চমক

ভারতীয় রেলে যাত্রীদের পরিবেশন করা খাবারের মান ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ এবার মেটাতে চলেছে আইআরসিটিসি। ট্রেনের খাবারে নোংরা বা রান্নাঘরের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের মতো সমস্যাগুলোর চিরতরে সমাধানে এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) দ্বারস্থ হয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। যাত্রীদের স্বাস্থ্যকর ও পরিচ্ছন্ন খাবার তুলে দিতে সারা দেশের রেল কিচেনগুলোতে স্বয়ংক্রিয় নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
দিল্লির ‘ওয়ার রুম’ থেকে চলবে কড়া নজরদারি
দেশজুড়ে আইআরসিটিসির ৮০০-র বেশি রান্নাঘরে প্রায় ২৪০০টি এআই-সক্ষম ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। এই অত্যাধুনিক ক্যামেরাগুলো দিল্লির একটি কেন্দ্রীয় ‘ওয়ার রুম’-এর সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত। এই সিস্টেমটি শুধু ভিডিও রেকর্ড করে না, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে রান্নাঘরের প্রতিটি কার্যকলাপ বিশ্লেষণ করে। কোনো কর্মী হেয়ারনেট বা গ্লাভস ছাড়া কাজ করছেন কি না কিংবা মেঝে ঠিকমতো পরিষ্কার করা হয়েছে কি না, তা মুহূর্তের মধ্যে শনাক্ত করতে পারে এই প্রযুক্তি।
পোকামাকড় রুখতে স্বয়ংক্রিয় অ্যালার্ট সিস্টেম
কর্মীদের কাজের তদারকির পাশাপাশি এই প্রযুক্তি রান্নাঘরে থাকা ইঁদুর, আরশোলা, মাছি এবং অন্যান্য ক্ষতিকর পোকামাকড়ও নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে পারে। রেল কর্মকর্তাদের দাবি, মাত্র ৭-৮ মিলিমিটার আকারের ছোট পোকামাকড়ও এই ক্যামেরার চোখ এড়াতে পারবে না। পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত ৯টি প্রধান সমস্যা চিহ্নিত করার জন্য সিস্টেমটিকে প্রস্তুত করা হয়েছে। কোথাও কোনো ত্রুটি বা নিয়মভঙ্গ ধরা পড়লেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি অ্যালার্ট টিকিট বা সতর্কবার্তা তৈরি হয়, যার ফলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারেন।
প্রতি বছর রেলের বিশাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কোটি কোটি যাত্রীর কাছে খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়। এত বিপুল পরিমাণ খাবারের ক্ষেত্রে মানুষের পক্ষে সবসময় সরাসরি তদারকি করা প্রায় আসাম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। মূলত এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতেই এআই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হলো। রেল কর্তৃপক্ষের আশা, এই নিরবচ্ছিন্ন ও অত্যাধুনিক নজরদারির ফলে আগামী দিনে ট্রেনের খাবারের গুণগত মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, যাত্রীদের অভিযোগ কমবে এবং রেলের পরিষেবার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা আরও মজবুত হবে।