ধেয়ে আসছে শক্তিশালী এল নিনো, ভরা বর্ষায় ভারতে বৃষ্টির ঘাটতির বড় আশঙ্কা!

ধেয়ে আসছে শক্তিশালী এল নিনো, ভরা বর্ষায় ভারতে বৃষ্টির ঘাটতির বড় আশঙ্কা!

বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার মেজাজ বিগড়ে দিতে দ্রুত শক্তি বাড়াচ্ছে এল নিনো। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরের জল অস্বাভাবিক উষ্ণ হয়ে ওঠার কারণে ২০২৬ সালের জুন থেকে অগাস্টের মধ্যে বিশ্বজুড়ে বৃষ্টিপাতের মানচিত্রে বড়সড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে ভারতের ওপর, যার ফলে এ বছর ভরা বর্ষাতেও স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কেন শক্তিশালী হয়ে উঠছে এল নিনো?

আবহাওয়াবিদদের মতে, এল নিনো হলো ‘এল নিনো সাউদার্ন অসিলেশন’ বা এনসো (ENSO)-এর একটি উষ্ণ পর্যায়। সাধারণত প্রশান্ত মহাসাগরের নির্দিষ্ট অংশের জলের তাপমাত্রা ০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে উঠলে এল নিনোর পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে চলতি বছরে এই সূচক প্রায় ১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে, যা একটি অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই উষ্ণায়নের ফলে বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহের স্বাভাবিক ছন্দ বদলে যাচ্ছে, যা বিশ্বের কোথাও খরা আবার কোথাও অতিবৃষ্টির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

ভারতসহ বিশ্বে কেমন প্রভাব পড়বে?

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা এবং ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)-এর মডেল অনুযায়ী, এবার ভারতে মৌসুমি বায়ু দুর্বল থাকতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি গড়ের তুলনায় মাত্র ৯০ শতাংশের কাছাকাছি বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু এবং হায়দরাবাদের মতো বড় শহরগুলোতে বৃষ্টির ঘাটতি দেখা দিতে পারে। শুধু ভারতই নয়, অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ও মেলবোর্ন এবং আফ্রিকার একাধিক দেশেও খরার মতো শুষ্ক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, এই এল নিনোর প্রভাবেই ইকুয়েডরের উপকূলীয় অঞ্চল এবং দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানসবার্গ ও জিম্বাবোয়ের হারারেতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বৃষ্টি বা অতিবৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *