তৃণমূলের সাংসদরাও কি এবার বিদ্রোহী! জল্পনা উসকে দিলেন ঋতব্রত

রাজ্য রাজনীতিতে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙনের জল্পনা এবার আরও তীব্র রূপ নিল। বিদ্রোহী বিধায়কদের পাশাপাশি দলের একাধিক সাংসদও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বলে বিস্ফোরক দাবি করেছেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। কাদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে, সেই নামগুলি প্রকাশ্যে না আনলেও তাঁর এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর আগে রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ও লোকসভার অধিকাংশ সাংসদের দলবদলের সম্ভাবনা উসকে দিয়েছিলেন, যা এখন ঋতব্রতর সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।
উপদেষ্টা হিসেবে মমতাকে চাওয়ার তাৎপর্য
দলে বর্তমানে কার্যত দুটি স্পষ্ট ভাগ তৈরি হয়েছে— একটি মূল তৃণমূল এবং অন্যটি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী তৃণমূল। তবে আশ্চর্যের বিষয় হল, দলগতভাবে এই চরম বিভাজন তৈরি হলেও বিদ্রোহী শিবির তাদের বিধানসভা দলের ‘উপদেষ্টা’ হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই চাইছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করলেও তৃণমূল নেত্রীর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে নিজেদের পক্ষে ব্যবহার করতেই এমন কৌশলী মন্তব্য করেছেন ঋতব্রতরা।
সংঘাতের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
দলের অন্দরে ক্ষমতার রাশ কার হাতে থাকবে এবং অভ্যন্তরীণ মতানৈক্য থেকেই মূলত এই বড়সড় বিদ্রোহের সূত্রপাত। মূল তৃণমূল নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই ঋতব্রতর বিরোধী দলনেতার পদপ্রাপ্তি মানতে অস্বীকার করেছে এবং এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নামতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে, ঋতব্রতর দাবি অনুযায়ী সাংসদরাও যদি এই বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেন, তবে তা শাসক দলের জন্য এক বিরাট সাংগঠনিক ধাক্কা হবে। এর ফলে আগামী দিনে একদিকে যেমন আইনি ও সাংবিধানিক জটিলতা বৃদ্ধি পাবে, তেমনই রাজ্য ও জাতীয় স্তরে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক শক্তিও যথেষ্ট দুর্বল হতে পারে।