রামমন্দিরে ভক্তদের দানের কোটি কোটি টাকা উধাও, বিস্ফোরক অখিলেশ যাদব চাইলেন আদালতের হস্তক্ষেপ
অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দান করা কোটি কোটি টাকা গায়েব হয়ে যাওয়ার বিস্ফোরক অভিযোগ ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। সমাজবাদী পার্টির (সপা) সাংসদ অখিলেশ যাদব এই চাঞ্চল্যকর দাবি তুলে সরাসরি মন্দির ট্রাস্টের দিকে আঙুল তুলেছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তিনি দেশের আদালতের স্বতঃপ্রণোদিত হস্তক্ষেপও দাবি করেছেন। বিশ্বের কোটি কোটি সনাতন ধর্মাবলম্বীর আবেগের কেন্দ্রবিন্দুতে এমন আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল রূপ নিচ্ছে।
তহবিল তছরুপের অভিযোগ ও রাজনৈতিক ক্ষোভ
সোশাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বিবৃতিতে অখিলেশ যাদব অভিযোগ করেন, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা রামভক্তদের জন্য এটি অত্যন্ত দুঃখের এবং লজ্জাজনক ঘটনা। রামমন্দিরের মতো পবিত্র স্থানের তহবিল থেকে কোটি কোটি টাকা গায়েব হয়ে যাওয়া ট্রাস্টের জন্য চরম অস্বস্তিকর হলেও এই ইস্যুতে সবাই নীরব। ঘটনার পেছনে বড়সড় কোনো জালিয়াতি কাজ করছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সমাজবাদী পার্টি। দলের মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, রাম মন্দির নির্মাণের জন্য এ পর্যন্ত ভক্তদের কাছ থেকে কত টাকা অনুদান পাওয়া গিয়েছে এবং তা কোথায় কীভাবে খরচ হয়েছে, তার শ্বেতপত্র বা পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব জনগণের সামনে আনা উচিত। এই নীরবতা ভক্তদের ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর বড় আঘাত হানবে এবং সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে গভীর সংশয় তৈরি করবে।
পাল্টা প্রতিক্রিয়া ও ট্রাস্টের বক্তব্য
এই ব্যাপক বিতর্কের মুখে শ্রীরাম জন্মভূমি ট্রাস্টের অন্যতম প্রধান দীনেন্দ্র দাস সরাসরি কোনো আর্থিক খতিয়ান বা সাফাই পেশ করেননি। বিষয়টিতে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে তিনি জানিয়েছেন, শ্রীরামের ঐতিহ্যের প্রতি তাঁদের পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে। যদি কোনো ভুল বা অনিয়ম হয়েও থাকে, তবে স্বয়ং ভগবান রামই তার বিচার করবেন এবং দোষীকে উপযুক্ত শাস্তি দেবেন। তবে ট্রাস্টের এই মন্তব্য বিরোধীদের পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারেনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগের যথাযথ তদন্ত না হলে তা আগামী দিনে মন্দির প্রশাসনের নির্ভরযোগ্যতা এবং দেশের রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে।