পাহাড়ে ফের মৃত্যুমিছিল! ধসে তিস্তায় তলিয়ে যাওয়া গাড়ি থেকে মিলল একই পরিবারের ৪ জনের দেহ

তিস্তায় তলিয়ে যাওয়া গাড়িতে মিলল একই পরিবারের চারজনের নিথর দেহ
উত্তরবঙ্গে লাগাতার বৃষ্টির দাপটে পাহাড়ি পথে নেমে আসা বিপর্যয়ের বলি হলো একটি আস্ত পরিবার। গত শুক্রবার ধসের মুখে পড়ে তিস্তা নদীতে তলিয়ে যাওয়া গাড়িটি দু’দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (NDRF) টানা তল্লাশি অভিযানের পর নদীগর্ভ থেকে গাড়িটি টেনে তোলা হয়। ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৫ বছরের শিশুসহ চারজনের মৃতদেহ। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গ্যাংটকের কাবি লাংচক এলাকায়।
প্রবল বর্ষণ ও পাহাড় ধসের জেরে মর্মান্তিক পরিণতি
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃতদের নাম স্মারিকা নিওপানে, শৈব্যা নিওপানে, টিকা দাহাল এবং ৫ বছরের শিশু দিত্যা ছেত্রী। শুক্রবার বিকেলে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে সেবক ও কালীঝোড়ার মধ্যবর্তী এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। লাগাতার বৃষ্টির ফলে পাহাড় থেকে নেমে আসা বিশাল পাথরের চাঁই সরাসরি গাড়িটির ওপর আছড়ে পড়ে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি সটান তিস্তার খরস্রোতা জলে পড়ে যায়। ঘটনার পরপরই উদ্ধারকাজ শুরু হলেও নদীর তীব্র স্রোত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বেগ পেতে হয় উদ্ধারকারীদের। অবশেষে রবিবার করোনেশন সেতুর কাছে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া গাড়িটির ভেতরে তাদের মৃতদেহ পাওয়া যায়।
ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি পথে সতর্কতার বার্তা
পাহাড়ি এলাকায় বর্ষার মরশুমে এই ধরনের বিপর্যয় নতুন নয়। অতিবৃষ্টির কারণে মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় ধসের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এই দুর্ঘটনা আরও একবার প্রমাণ করল যে, বর্ষাকালে পাহাড়ের সংকীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে যাত্রা কতটা প্রাণঘাতী হতে পারে। বিশেষজ্ঞ ও প্রশাসন উভয়ই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পাহাড় ভ্রমণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন। প্রকৃতির এই রোষের মুখে পড়ে একটি পরিবারের এমন অকাল প্রয়াণ পাহাড়ি জনপদে এক গভীর বিষাদময় স্মৃতি রেখে গেল।