সংঘর্ষবিরতির দিন শেষ? ফের ইজরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের, পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি নেতানিয়াহুর বাহিনীর

ফের যুদ্ধের দামামা ইজ়রায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল ইরান
পশ্চিম এশিয়ায় ফের যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। গত এপ্রিলে দুই দেশের মধ্যে হওয়া সংঘর্ষবিরতি চুক্তি ভেঙে রবিবার রাতে ইজ়রায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনী। তেহরানের দাবি, লেবাননের রাজধানী বেইরুটে ইজ়রায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের প্রতিবাদ এবং ইরান সমর্থিত হিজ়বুল্লা গোষ্ঠীর ওপর আক্রমণের পাল্টা জবাব দিতেই এই প্রত্যাঘাত চালানো হয়েছে।
আকাশেই প্রতিহত ক্ষেপণাস্ত্র
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান থেকে অন্তত ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। যার ফলে ইজ়রায়েলের উত্তর প্রান্তে তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং সতর্কতাসূচক সাইরেন বেজে ওঠে। তেহরান দাবি করেছে, ইজ়রায়েলের রামাত ডেভিড বায়ুসেনা ঘাঁটি ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। তবে ইজ়রায়েলি বাহিনীর দাবি, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে আকাশপথেই ওই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করেছে। এই ঘটনায় কোনও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
সংঘাতের নেপথ্যে ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে লেবাননে ইজ়রায়েলের লাগাতার সামরিক আগ্রাসন। ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, লেবাননে ইজ়রায়েলি আক্রমণ বন্ধ না হলে সমঝোতা বজায় রাখা সম্ভব নয়। রবিবার বেইরুটে পুনরায় ইজ়রায়েলের হামলার পরই ইরান এই চরম পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ইজ়রায়েলের সামরিক মুখপাত্র এই ঘটনাকে ‘ভয়ঙ্কর ভুল’ হিসেবে অভিহিত করে পাল্টা প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই উত্তেজনার ফলে ফের নতুন করে পশ্চিম এশিয়ায় সর্বাত্মক যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও স্থিতিশীলতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।