মাঝরাতে রণক্ষেত্র যাদবপুর, হকার উচ্ছেদে চলল বুলডোজার ও লাঠি, সৃজন ভট্টাচার্য সহ গ্রেফতার ৬!

যাদবপুর স্টেশন চত্বরে রেলের হকার উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে রবিবার গভীর রাতে নজিরবিহীন উত্তেজনা ও সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় থাকা দোকানপাট ও হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে বামপন্থী সংগঠন, কংগ্রেসের একাংশ, স্থানীয় বাসিন্দা এবং হকাররা যৌথভাবে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। আন্দোলনকারীদের বাধা ও প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রেল পুলিশ, রাজ্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী লাঠিচার্জ শুরু করলে গোটা এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।
উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে ধুন্ধুমার ও রক্তক্ষয়ী সংঘাত
রেল কর্তৃপক্ষের এই উচ্ছেদ অভিযানে রাতভর বুলডোজার চালিয়ে একাধিক দোকান ও স্টল ভেঙে ফেলা হয়। পুলিশের লাঠিচার্জে পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন সাংবাদিক সহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন যাদবপুরের প্রাক্তন সাংসদ সুজন চক্রবর্তী, এসএফআই-এর সর্বভারতীয় সম্পাদক তথা ছাত্রনেতা সৃজন ভট্টাচার্য এবং জয়রাজ ভট্টাচার্য। মাথায় গুরুতর আঘাত লাগায় সুজন চক্রবর্তী ও জয়রাজ ভট্টাচার্যকে স্থানীয় কেপিসি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তাঁদের সিটি স্ক্যান সহ বিভিন্ন পরীক্ষা করা হচ্ছে। রামগড়ের বাসিন্দা ঋতব্রত ঘোষ নামে এক আন্দোলনকারীর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। এই ঘটনার জেরে পুলিশ সৃজন ভট্টাচার্য সহ মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে।
canবিবাদের কারণ ও আন্দোলনের ঝাঁঝ বৃদ্ধির আশঙ্কা
রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, স্টেশন এলাকা সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যাতায়াতের সুবিধা বাড়াতেই এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। এছাড়া যেসব দোকান এখনও ভাঙা হয়নি, সেগুলি সরানোর জন্য ১৫ দিনের সময়সীমা দিয়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তবে এই পদক্ষেপের ফলে তৈরি হওয়া ক্ষোভ সহজে কমছে না। গ্রেফতার হওয়া নেতাকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে রাত তিনটে থেকেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেটের সামনে এসএফআই এবং সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা বিক্ষোভ অবস্থানে বসেছেন। সোমবার সকাল থেকে এই আন্দোলন আরও বৃহত্তর রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা কলকাতার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক মহলে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।