ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি উড়িয়ে ইরানে ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে ঘনাচ্ছে যুদ্ধের মেঘ!

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি উড়িয়ে ইরানে ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে ঘনাচ্ছে যুদ্ধের মেঘ!

পশ্চিম এশিয়ায় ফের যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং হুঁশিয়ারিকে কার্যত উপেক্ষা করেই ইরানের একাধিক শহরে বড়সড় সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েল। ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে শুরু করে ইস্পাহান ও তাবরিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। গত ৮ এপ্রিল কার্যকর হওয়া ১০০ দিনের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে এই প্রথম এত বড় হামলা চালাল ইসরায়েল, যা গোটা অঞ্চলের পরিস্থিতিকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

সংঘাতের নেপথ্য কারণ ও ধারাবাহিকতা

ইরানের ছোড়া মিসাইল হামলার সরাসরি বদলা হিসেবেই ইসরায়েল এই পাল্টা আঘাত হেনেছে বলে সামরিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। এর আগে লেবাননে ইসরায়েলের ‘শত্রুতামূলক কার্যকলাপ’ বন্ধ করার জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে ইসরায়েলের দিকে ঝাঁকে ঝাঁকে মিসাইল ছুড়েছিল তেহরান। ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) জানিয়েছে, ইরানের ছোড়া সব কটি মিসাইল সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে এবং তারা যে কোনো হুমকি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এই সংঘাতের শিকড় ছড়িয়ে আছে লেবাননেও। রবিবার সকালে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবোল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে হামলা চালানোর পর, ইসরায়েলও বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে বিমান হামলা চালায়, যাতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। এই পাল্টাপাল্টি আক্রমণ মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে রীতিমতো আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে।

মার্কিন হস্তক্ষেপ এবং সম্ভাব্য প্রভাব

পরিস্থিতি সামাল দিতে মরিয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি একদিকে যেমন তেহরানকে মিসাইল হামলা বন্ধ করে আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন, অন্যদিকে বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলারও কড়া সমালোচনা করেছেন। এমনকি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার চূড়ান্ত ক্ষমতা তাঁরই হাতে। তা সত্ত্বেও এই হামলার ফলে পশ্চিম এশিয়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছে। হামলার পরপরই ইসরায়েলজুড়ে এয়ার ডিফেন্স সাইরেন বেজে ওঠে এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সোমবার দেশটির সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে শান্তিচুক্তির আলোচনা থমকে থাকায় এই সাম্প্রতিক উত্তেজনা আঞ্চলিক অর্থনীতি ও বিশ্বশান্তির ওপর এক সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *