ট্রাম্পের নিষেধ অমান্য করেই কি ইরানে ইজরায়েলি হামলা? পাল্টা প্রত্যাঘাতে উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া

ট্রাম্পের নিষেধ উপেক্ষা করেই ইরানে ইজরায়েলি হামলা, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের দামামা
সোমবার ভোরে ইরানের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। পশ্চিম ও মধ্য ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়। তেহরানের বিভিন্ন প্রান্তে তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজও এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। এই হামলার ফলে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনও অস্পষ্ট হলেও, দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনার পারদ চরমে পৌঁছেছে।
আমেরিকার হুঁশিয়ারি ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
ইজরায়েলের ওপর ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি এড়াতে তৎপর হয়েছিলেন। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে প্রায় আধা ঘণ্টা ফোনালাপে ট্রাম্প স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন যে, এই মুহূর্তে যেন পাল্টা কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া না হয়। ট্রাম্পের স্পষ্ট অভিমত ছিল, ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির প্রক্রিয়াটি যেন এই সংঘাতের কারণে ভেস্তে না যায়। তবে হোয়াইট হাউসের এই কূটনৈতিক বার্তা অগ্রাহ্য করেই ইজরায়েল তার সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনে আগ্রাসী অবস্থান গ্রহণ করল।
সংঘাতের কারণ ও প্রভাব
লেবাননে ইজরায়েলি অভিযানের প্রতিবাদে ইরান সরাসরি ইজরায়েলের অভ্যন্তরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালে নতুন করে সংঘাতের সূত্রপাত হয়। ইজরায়েলি বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, তারা ইরানের ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করেছে। তবে এই ঘটনার পরেই ইজরায়েলের পাল্টা আক্রমণ ছিল সময়ের অপেক্ষা। ইরানি প্রশাসনও আগে থেকেই পশ্চিম ও মধ্যভাগে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রেখেছিল, যা প্রমাণ করে যে তেহরানও একটি সম্ভাব্য পাল্টা হামলার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিল।
এই সামরিক উত্তেজনার ফলে গোটা পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি ফের ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়ল। একদিকে আমেরিকার শান্তি আলোচনার উদ্যোগ এবং অন্যদিকে ইজরায়েলের সামরিক কঠোরতা—এই দ্বন্দ্বে পুরো অঞ্চলটিতে যুদ্ধের আবহ তৈরি হয়েছে। ইজরায়েলের এই পদক্ষেপের বিপরীতে ইরান পরবর্তী কী কৌশল গ্রহণ করে, তা এখন বিশ্ব রাজনীতির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।