মধ্যরাতে যাদবপুরে চলল বুলডোজার, পুলিশের লাঠিচার্জে ছত্রভঙ্গ বাম-কংগ্রেসের প্রতিরোধ!

রবিবার মধ্যরাতে যাদবপুর রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা। পূর্বঘোষিত নোটিশ অনুযায়ী অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে পুলিশ ও প্রশাসনের তরফে বুলডোজার আনা হলে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশি পদক্ষেপের জেরে রাতেই গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় একাধিক দোকান।
বিনা পুনর্বাসনে উচ্ছেদের প্রতিবাদ
বিকল্প ব্যবস্থা বা পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে আগে থেকেই সরব ছিল বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস। এদিন রাতে এলাকায় বুলডোজারের উপস্থিতি টের পেয়েই যাদবপুরে জমায়েত শুরু করেন দুই শিবিরের নেতা-কর্মীরা। উপস্থিত ছিলেন সৃজন ভট্টাচার্য, সুজন চক্রবর্তী, প্রদীপ প্রসাদ ও আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়ের মতো নেতারা। তাঁদের দাবি ছিল, উপযুক্ত কমার্শিয়াল প্লট বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে কোনওভাবেই হকারদের উচ্ছেদ করা যাবে না। শুরুতে এই সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে পড়ে প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান কিছুটা ব্যাহত হয়।
পুলিশের লাঠিচার্জ ও আটক
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং উচ্ছেদ অভিযান কার্যকর করতে মধ্যরাতেই লাঠিচার্জ শুরু করে পুলিশ। অভিযোগ, আচমকা এই পদক্ষেপে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে বুলডোজার দিয়ে দোকানপাট ভাঙার কাজ শুরু হয়। পুলিশের লাঠিচার্জে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী আহত হন এবং তাঁদের নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে এসএফআই-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্যকে আটক করে পুলিশ।
মূলত বেআইনি নির্মাণ ও রাস্তা দখলমুক্ত করতেই প্রশাসনের এই বুলডোজার অ্যাকশন বা উচ্ছেদ অভিযান। তবে বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এই ঘটনার ফলে অসংখ্য হকার একরাতেই চরম আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়লেন। পাশাপাশি, মধ্যরাতের এই পুলিশি অ্যাকশন ও ধরপাকড়ের জেরে আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে রাজনৈতিক উত্তাপ ও সংঘাত আরও বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হলো।