দোষী আমলারা কেন পার পাচ্ছেন? পটপরিবর্তনের পর দুর্নীতি নিয়ে বিস্ফোরক বিকাশরঞ্জন

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে পূর্বতন জমানার একাধিক হেভিওয়েট নেতার দুর্নীতিতে জড়িয়ে গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনা যখন ক্রমাগত খবরের শিরোনামে, ঠিক তখনই এক জ্বলন্ত প্রশ্ন তুললেন প্রবীণ বাম নেতা তথা আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। সম্প্রতি একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি সরাসরি আঙুল তুলেছেন রাজ্যের আমলাতন্ত্র ও পুলিশ প্রশাসনের দিকে। নেতাদের পাশাপাশি কেন দুর্নীতিগ্রস্ত আমলা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, সেই প্রশ্নই এখন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
কাঠগড়ায় আমলাতন্ত্র ও পুলিশ প্রশাসন
বিকাশবাবুর মূল প্রশ্ন, এই সমস্ত দুর্নীতির খবর আগে থেকে জানা সত্ত্বেও পুলিশ এবং সাধারণ প্রশাসন কেন এতদিন কোনো পদক্ষেপ করেনি? বিশেষ করে শিক্ষা দুর্নীতির মতো বড়সড় কেলেঙ্কারিতে উচ্চপদস্থ সরকারি আমলাদের ভূমিকা নিয়ে তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর সাফ কথা, জনগণের করের টাকায় আমলাতন্ত্রকে পালন করা হয় নিয়ম মেনে আইনসম্মতভাবে প্রশাসন চালানোর জন্য, রাজনৈতিক নেতাদের বেআইনি কাজে মদত দেওয়ার জন্য নয়। ফলে নেতারা শাস্তি পেলে, সমভাবে দোষী আমলারা কেন ছাড় পাবেন, সেই জবাবই চেয়েছেন এই প্রবীণ আইনজীবী।
প্রশাসনিক জবাবদিহিতা ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিবৃতির একটি গভীর প্রশাসনিক ও সামাজিক প্রভাব রয়েছে। রাজনৈতিক পালাবদলের পর সাধারণত নিচুতলার ক্ষোভ নেতাদের ওপর গিয়ে পড়ে, কিন্তু নেপথ্যে থাকা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ভূমিকা আড়ালেই থেকে যায়। বিকাশরঞ্জনের এই অবস্থান আগামী দিনে দুর্নীতিবিরোধী তদন্তের গতিপ্রকৃতি বদলে দিতে পারে। এটি একদিকে যেমন আমলাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবিতে নাগরিক সমাজকে সোচ্চার করবে, অন্যদিকে তদন্তকারী সংস্থাগুলোর ওপরও দোষী কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করার চাপ বাড়িয়ে তুলবে। দুর্নীতি মুক্ত ব্যবস্থার স্বার্থে এই প্রশাসনিক শুদ্ধিকরণ অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।