তিস্তায় তলিয়ে গেল গাড়ি, শিশুসহ একই পরিবারের ৪ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু!

সিকিম থেকে শিলিগুড়িতে অসুস্থ আত্মীয়কে দেখতে আসার পথে ভয়াবহ ধসের কবলে পড়ে প্রবল স্রোতযুক্ত তিস্তা নদীতে তলিয়ে গেল একটি গাড়ি। দু’দিনের উৎকণ্ঠা ও টানা তল্লাশি অভিযানের পর রবিবার নদীগর্ভ থেকে উদ্ধার করা হল পাঁচ বছরের শিশু-সহ একই পরিবারের চার সদস্যের নিথর দেহ। মর্মান্তিক এই ঘটনায় পাহাড় ও সমতলজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রবল বৃষ্টি ও ধসেই মর্মান্তিক পরিণতি
প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সিকিমের বাসিন্দা ওই পরিবার নিজেদের গাড়িতে ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে শিলিগুড়ির দিকে আসছিলেন। ওইদিন বিকেল নাগাদ রোম্বি ও বাঘপুলের মাঝে ভেলাবাড়ি এলাকায় আত্মীয়দের সঙ্গে তাঁদের শেষবার কথা হয়। সেসময় প্রবল বৃষ্টির জেরে পাহাড়ি ঝরনা ফুলেফেঁপে উঠেছিল। আচমকাই উপর থেকে নেমে আসা ভয়াবহ ধসের মুখে পড়ে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি তিস্তার গভীর খাদে তলিয়ে যায়। এরপর থেকেই তাঁদের মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সব্য নিউপানে (২৭), স্মরিকা নিউপানে (২৯), টিকা মায়া দাহাল (৩১) ও পাঁচ বছরের শিশু দিত্য ছেত্রী।
উদ্ধার অভিযান ও সম্ভাব্য প্রভাব
পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার সকাল থেকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ, সিকিম প্রশাসন এবং এনডিআরএফের যৌথ উদ্যোগে শুরু হয় জোরদার তল্লাশি। ডেপুটি কমান্ড্যান্ট সঞ্জয় রঞ্জনের নেতৃত্বে তল্লাশির শুরুতেই নদীর পাড় থেকে গাড়ির ব্যাটারি ও কিছু ভাঙা অংশ উদ্ধার হয়। অবশেষে রবিবার ডুবুরি নামিয়ে কালীবাড়ির কাছে নদীগর্ভ থেকে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি ও গাড়ির ভিতর থেকে চারজনের দেহ উদ্ধার করা হয়। উত্তরবঙ্গের বিপর্যয় মোকাবিলা দলের কমান্ডান্ট অজয় কুমার জানিয়েছেন, দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। বর্ষায় পাহাড়ের এই ভঙ্গুর পরিস্থিতি এবং ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের নিরাপত্তা নিয়ে এই ঘটনা ফের বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। পাহাড়ি রাস্তায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে বৃষ্টির দিনে যে আরও অনেক বেশি সতর্কতা প্রয়োজন, এই দুর্ঘটনা সেই বাস্তবকেই নতুন করে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।