ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে আমেরিকার নজিরবিহীন ফরমান, ম্যাচ শেষেই দেশ ছাড়তে হবে ইরানকে!

বিশ্বকাপ ফুটবলের মেগা আসর শুরুর আগেই মাঠের বাইরের কূটনীতি ও রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছাল। মেক্সিকো ও কানাডার সঙ্গে যৌথভাবে এবারের বিশ্বকাপ আয়োজন করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরুর মুখেই ইরান ফুটবল দলের ওপর নজিরবিহীন ভিসা ও যাতায়াত বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। আমেরিকার কড়া নির্দেশ, ম্যাচ খেলার জন্য মার্কিন মাটিতে পা রাখার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইরান দলকে দেশ ছাড়তে হবে।
নিরাপত্তার কড়াকড়ি নাকি রাজনৈতিক জটিলতা
আমেরিকার এই কঠোর সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে গভীর নিরাপত্তা শঙ্কা। ওয়াশিংটনের দাবি, ফুটবলের অছিলায় ইরান যাতে সে দেশে কোনোভাবেই ‘জঙ্গি’ বা অনাকাঙ্ক্ষিত উপাদান অনুপ্রবেশ করাতে না পারে, সেই কারণেই ভিসা প্রক্রিয়ায় এই চরম কড়াকড়ি। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ইরান দলকে তাদের ম্যাচের দিন সকালে আমেরিকায় পৌঁছাতে হবে এবং লস অ্যাঞ্জেলেস ও সিয়াটলে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ শেষ করেই দ্রুত মেক্সিকোতে ফিরে যেতে হবে।
ইতিমধ্যেই মেক্সিকোর তিজুয়ানায় পৌঁছে যাওয়া ইরান দল এই সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। ফুটবলারদের ভিসা মিললেও দলের বহু সাপোর্ট স্টাফ ও কর্মকর্তার ভিসা এখনও আটকে রাখা হয়েছে। মেক্সিকোয় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আবোলফাজি পাসানদিদেহ এবং দলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার এহসান হাজসফি আমেরিকার এই পদক্ষেপকে ‘হয়রানিমূলক’ বলে আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সরব হয়েছেন।
ক্রীড়াবিশ্বে সম্ভাব্য প্রভাব
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বমঞ্চের মতো একটি বড় টুর্নামেন্টে এই ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ ফুটবলের মূল ভাবাবেগকে আঘাত করতে পারে। ভ্রমণের ধকল সামলে ম্যাচের দিন সকালে এসে সরাসরি মাঠে নামা ফুটবলারদের শারীরিক ও মানসিক পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক বৈরিতা আরও চরম আকার ধারণ করতে পারে, যা বিশ্বকাপের সার্বিক ক্রীড়াবাতাবরণকে উত্তপ্ত করে তোলার আশঙ্কা তৈরি করেছে।