নেপাল সীমান্ত থেকে অবশেষে এসটিএফের জালে ফলতার ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির খান!

নেপাল সীমান্ত থেকে অবশেষে এসটিএফের জালে ফলতার ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির খান!

ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের পর থেকে নিখোঁজ থাকা বিতর্কিত তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছেন। বেঙ্গল এসটিএফ এবং জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে ভারত-নেপাল সীমান্ত থেকে তাঁকে পাকড়াও করা হয়। দলীয় অন্দরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ তথা তাঁর ‘ডান হাত’ বলে পরিচিত জাহাঙ্গিরের এই গ্রেপ্তারিকে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভোটের আগে নিজেকে ‘পুষ্পা’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে এবং উত্তরপ্রদেশের ‘সিংহম’ পুলিশ আধিকারিককে চ্যালেঞ্জ করে তিনি ব্যাপক আলোচনায় এসেছিলেন।

যেভাবে চলত লুকোচুরি খেলা

তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, ফলতার পুনর্নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর আইনি রক্ষাকবচ উঠতেই সপরিবারে বেপাত্তা হয়ে যান এই নেতা। তিনি নিজের পুরোনো মোবাইল নম্বর বদলে ফেলে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে ভারত-নেপাল সীমান্তে আত্মগোপন করেছিলেন। এমনকি সীমান্ত পার করে নেপালে স্থায়ীভাবে গা ঢাকা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সেখানে সন্তানদের স্কুলে ভর্তি করার খোঁজখবরও শুরু করেছিলেন। তবে শেষরক্ষা হয়নি। তাঁর ব্যবহৃত নতুন মোবাইল নম্বরটি ট্র্যাক করে বেঙ্গল এসটিএফের তদন্তকারীরা তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করেন এবং ভারত-নেপাল সীমান্তে অতর্কিতে হানা দিয়ে তাঁকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেন।

পতন ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

জাহাঙ্গির খানের এই পতনের নেপথ্যে রয়েছে ফলতা পুনর্নির্বাচনের রাজনৈতিক নাটক। ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে আচমকাই ময়দান ছেড়ে ঘরে সেঁধিয়ে যান এই হেভিওয়েট নেতা। এর ফলে ফলতায় তৃণমূল কংগ্রেসের জামানত জব্দ হয়, যা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাজানো ‘ডায়মন্ড হারবার’ মডেলের জন্য বড় বিপর্যয় হিসেবে প্রমাণিত হয়। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গ্রেপ্তারি দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় তৃণমূলের সাংগঠনিক সমীকরণে বড়সড় বদল আনতে পারে। একই সঙ্গে, সীমান্ত এলাকায় অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়ার প্রবণতা রুখতে প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *