গ্রেপ্তার হলেন ফলতার ‘ত্রাস’ জাহাঙ্গির, ক্ষুব্ধ জনতার তাণ্ডবে রণক্ষেত্র এলাকা!

বাংলা-নেপাল সীমান্ত থেকে ফলতার বিতর্কিত তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান গ্রেপ্তার হতেই ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়। সোমবার সকালে বেঙ্গল এসটিএফ এবং জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে এই স্বঘোষিত ‘পুষ্পা’ গ্রেপ্তার হওয়ার খবর আসতেই ফলতায় তাঁর বাড়ি ও সংলগ্ন পার্টি অফিসে আছড়ে পড়ে তীব্র জনরোষ। উত্তেজিত জনতা জাহাঙ্গিরের বাড়ি, একটি নির্মীয়মাণ ভবন এবং শ্রীরামপুরের পার্টি অফিসে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় তৈরি হওয়া ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে বহু মানুষকে মিষ্টি বিলিও করতে দেখা যায়।
সরকারি ত্রাণ চুরি ও গণলুটপাটের অভিযোগ
ভাঙচুর চলাকালীন জাহাঙ্গিরের শ্রীরামপুরের পার্টি অফিসের তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উত্তেজিত জনতা টেবিল, চেয়ার, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। এই তাণ্ডবের মাঝেই পার্টি অফিসের ভেতরে থরে থরে সাজানো প্রচুর পরিমাণ সরকারি ত্রাণ সামগ্রী ও ত্রিপল উদ্ধার হয়। ঘটনার জেরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। ক্ষুব্ধ জনতার একাংশকে মুখ ঢেকে সেইসব মজুত করা সরকারি ত্রাণ সামগ্রী লুটপাট করে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
পলায়ন পর্ব ও যেভাবে জালে ‘পুষ্পা’
২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের একমাত্র ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু পুনর্নির্বাচনের ঠিক দুই দিন আগে আকস্মিকভাবে ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়িয়ে পরিবারসহ বেপাত্তা হয়ে যান এই নেতা। এরপর থেকেই তিনি মোবাইল নম্বর বদলে বাংলা-নেপাল সীমান্তে আত্মগোপন করেছিলেন। এমনকি সন্তানদের নেপালের স্কুলে ভর্তি করার প্রক্রিয়াও শুরু করেছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত তাঁর নতুন মোবাইল নম্বর ট্র্যাক করে বেঙ্গল এসটিএফ-এর তদন্তকারীরা তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করেন এবং নেপালে পালিয়ে যাওয়ার আগেই সীমান্ত এলাকা থেকে তাঁকে হাতেনাতে পাকড়াও করতে সক্ষম হন। এলাকায় জাহাঙ্গিরের দীর্ঘদিনের একচ্ছত্র আধিপত্য ও রাজনৈতিক দাপটের কারণে তৈরি হওয়া গণঅসন্তোষই তাঁর গ্রেপ্তারের পর এই আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও হিংসাত্মক পরিস্থিতির মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।