বিশ্বমঞ্চে জয়জয়কার! পিজির প্রাক্তন অধ্যাপক সতীনাথ মুখোপাধ্যায় এবার বিশ্বের শীর্ষ ৫% বিজ্ঞানীর তালিকায়

বিশ্বমঞ্চে জয়জয়কার! পিজির প্রাক্তন অধ্যাপক সতীনাথ মুখোপাধ্যায় এবার বিশ্বের শীর্ষ ৫% বিজ্ঞানীর তালিকায়

বিশ্বমঞ্চে অনন্য নজির গড়ে শীর্ষ ৫ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় বাঙালি চিকিৎসক

আন্তর্জাতিক গবেষণা মূল্যায়নের আঙিনায় ফের উজ্জ্বল হয়ে উঠল পশ্চিমবঙ্গের নাম। বিশ্বের শীর্ষ ৫ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান করে নিলেন কলকাতার এসএসকেএম তথা আইপিজিএমইআর হাসপাতালের এন্ডোক্রিনোলজি বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান চিকিৎসক সতীনাথ মুখোপাধ্যায়। আন্তর্জাতিক গবেষণা মূল্যায়ন সংস্থা ‘সাই–র‍্যাঙ্ক গ্লোবাল ২০২৫’-এর গ্লোবাল রেজিস্ট্রিতে এই বাঙালি গবেষককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংস্থার পক্ষ থেকে দেওয়া শংসাপত্র অনুযায়ী, বিশ্বস্তরে তাঁর সামগ্রিক র‍্যাঙ্ক ১৪,২৯৩। গবেষণাপত্রের প্রভাব, আন্তর্জাতিক স্তরে উদ্ধৃতির হার এবং অন্যান্য বিজ্ঞানসম্মত সূচকের ওপর ভিত্তি করে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

সাফল্যের কারণ ও বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন

বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীদের কাজের প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতা পরিমাপ করতে প্রতি বছর এই তালিকা প্রকাশ করে সাই–র‍্যাঙ্ক গ্লোবাল। আধুনিক বিজ্ঞান গবেষণায় কেবল প্রকাশিত প্রবন্ধের সংখ্যার ওপর নির্ভর না করে, সেই কাজ আন্তর্জাতিক স্তরে কতটা সাড়া ফেলেছে এবং অন্য গবেষকেরা নিজেদের কাজে তার কতটা উল্লেখ বা সাইটেশন করেছেন, তাকেই মূল মাপকাঠি ধরা হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে ড. মুখোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের কাজের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও জ্ঞানভাণ্ডারে তাঁর ধারাবাহিক অবদানই তাঁকে বিশ্বমঞ্চের এই প্রথম সারিতে নিয়ে এসেছে।

চিকিৎসা-গবেষণায় প্রভাব ও অনুপ্রেরণা

সরকারি হাসপাতালে বিপুল রোগীর চাপ ও সীমিত পরিকাঠামোর মধ্যেও চিকিৎসকদের এই স্তরের গবেষণা চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই স্বীকৃতি রাজ্যের সরকারি চিকিৎসা-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে গবেষণার মানোন্নয়নকে যেমন প্রমাণিত করে, তেমনই তা আন্তর্জাতিক চিকিৎসা-বিজ্ঞান মহলে বাংলার উপস্থিতিকে আরও জোরালো করে তুলবে। চিকিৎসকদের একাংশের মতে, সতীনাথ মুখোপাধ্যায়ের এই বৈশ্বিক সাফল্য আগামী দিনে নতুন প্রজন্মের চিকিৎসক ও গবেষকদের ক্লিনিক্যাল কাজের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের গবেষণামূলক কাজে যুক্ত হতে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *