নকল আধার কার্ডের জের! ১০ বাংলাদেশিকে ফেরাতে নারাজ বিজিবি

সীমান্তে টানটান উত্তেজনা, ভুয়ো আধার কার্ডের জেরে ১০ বাংলাদেশিকে ফেরাতে নারাজ বিজিবি!
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে জলপাইগুড়ির জিরো পয়েন্টে ৩৬ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে খোলা আকাশের নীচে বসে রয়েছেন তিন শিশু ও দুই মহিলাসহ মোট ১০ জন বাংলাদেশি নাগরিক। বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে দফায় দফায় ফ্ল্যাগ মিটিং হলেও এখনও পর্যন্ত তাঁদের নিজেদের দেশে ফিরিয়ে নেয়নি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উল্টে ওই নাগরিকদের কাছে ভারতের জাল আধার কার্ড মেলায় তাঁদের ভারতীয় বলে দাবি করছে বাংলাদেশ প্রশাসন। এই ঘটনার জেরে জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের নগরবেরুবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের জয়পুর সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে বিএসএফ।
ভুয়ো নথির ফাঁদে বিপন্ন নাগরিকত্ব
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জিরো পয়েন্টে আটকে থাকা ব্যক্তিরা আদতে বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার বড়বাড়ি পাঠানপাড়ার বাসিন্দা। বেশ কিছু সময় আগে তাঁরা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে কলকাতায় থাকতে শুরু করেন। সেখানে থাকার সময়ই তাঁরা ভুয়ো ভারতীয় আধার কার্ড ও অন্যান্য নথিপত্র তৈরি করেছিলেন। সম্প্রতি ভারতে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়াকড়ি শুরু হওয়ায় আতঙ্কে তাঁরা বাংলাদেশে ফিরে যান। কিন্তু সেখানে গিয়ে ভুয়ো আধার কার্ডসহ বিজিবির হাতে ধরা পড়ায় বিপত্তি বাড়ে। বিজিবি তাঁদের ভারতীয় নাগরিক বলে দাবি করে পুশইনের চেষ্টা চালালে বিএসএফের বাধায় তা ভেস্তে যায়। বর্তমানে বিজিবি মাইকিং করে তাঁদের ভারতীয় বলে দাবি করছে, যার ফলে জট আরও জোরালো হয়েছে।
সীমান্তে কড়াকড়ি ও চাষিদের ভোগান্তি
এই সীমান্ত সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে স্থানীয় ভারতীয় বাসিন্দাদের ওপর। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে বিএসএফের তরফ থেকে জয়পুর সীমান্তে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কাঁটাতারের ওপারে যাঁদের চাষের জমি রয়েছে, সুরক্ষার স্বার্থে বিএসএফ আপতত তাঁদের সেখানে যেতে নিষেধ করেছে। এর ফলে মরশুমের মাঝে নিজেদের জমিতে চাষের কাজ করতে না পেরে চরম সমস্যা ও আর্থিক উদ্বেগের মুখে পড়েছেন সীমান্তবর্তী এলাকার ভারতীয় কৃষকরা।