আইনি লড়াইয়েও বড় ধাক্কা সুজিত বসুর, শর্টকাট স্বস্তি দিতে নারাজ হাইকোর্ট!

আইনি লড়াইয়েও বড় ধাক্কা সুজিত বসুর, শর্টকাট স্বস্তি দিতে নারাজ হাইকোর্ট!

ভোটের ময়দানে পরাজয়ের পর এবার আইনি লড়াইয়েও বড়সড় ধাক্কা খেলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা সুজিত বসু। পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত এই নেতার এফআইআর বাতিল এবং দ্রুত শুনানির আবেদন খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। উচ্চ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে আইনি প্রক্রিয়ায় কোনও ‘শর্টকাট’ রাস্তা নেওয়া যাবে না, রেহাই পেতে হলে নিয়মিত বেঞ্চে জামিনের আবেদন করতে হবে। মে মাসে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) দ্বারা গ্রেফতার হওয়ার পর নিজের গ্রেফতারির বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সুজিত বসু, তবে আদালত তাঁকে কোনও অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি দেয়নি।

প্রথম শ্রেণীর বন্দির মর্যাদা নিয়ে টানাটানি

বর্তমানে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকা সুজিত বসুকে বিশেষ আদালতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে হাজির করা হলে তাঁর আইনজীবীরা তাঁকে ‘প্রথম শ্রেণীর বন্দি’ বা ‘গ্রেড ওয়ান প্রিজ়নার’ মর্যাদা দেওয়ার আবেদন জানান। তবে ইডি এই আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করে আদালতকে জানায় যে সুজিত বসু একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি, তদন্তে বেশ কিছু নতুন তথ্য সামনে এসেছে যার জন্য তাঁকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এছাড়া ইডি আদালতে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য পেশ করে জানায় যে, সুজিত বসুর ঘনিষ্ঠ ও দক্ষিণ দমদম পুরসভার উপপুরপ্রধান নিতাই দত্ত প্রভাবের কারণে বারবার ইডির সমন এড়াচ্ছেন।

রাজনৈতিক বিপর্যয় ও আইনি সংকটের প্রভাব

পাল্টা যুক্তিতে সুজিত বসুর আইনজীবীরা দাবি করেছেন যে সিবিআই-এর চার্জশিটে প্রাক্তন মন্ত্রীর কোনও নাম নেই এবং এই দুর্নীতিতে কোনও আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ মেলেনি, তাই এই গ্রেফতারি সম্পূর্ণ বেআইনি। উল্লেখ্য, গত ১১ মে দীর্ঘ তল্লাশির পর সুজিত বসুকে গ্রেফতার করা হয়। এর ঠিক আগেই বিধানসভা নির্বাচনে বিধাননগর কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থীর কাছে ৩৭ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত হন তিনি। এই আইনি ধাক্কার ফলে সুজিত বসুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ যেমন আরও বড় সংকটের মুখে পড়ল, তেমনই তাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্তের ওপর কেন্দ্রীয় সংস্থার চাপ আরও বাড়বে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *