‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি! অযোগ্যদের তালিকা তৈরির কড়া নির্দেশ

রাজ্যে পালাবদলের পর পূর্বতন সরকারের আমলের একাধিক প্রকল্পের দুর্নীতি নিয়ে কড়া অবস্থান নিচ্ছে প্রশাসন। এবার নজরে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্প। এই প্রকল্পে কারা বেআইনিভাবে সরকারি সুবিধা ভোগ করেছেন, তা চিহ্নিত করতে সমস্ত উপভোক্তার তথ্য নতুন করে যাচাইকরণের কড়া নির্দেশ দিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবাল। ইতিমধ্যেই পঞ্চায়েত এবং গ্রামোন্নয়ন দফতরের সচিবকে চিঠি দিয়ে এই নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।
দুর্নীতির অভিযোগ ও রাজকোষের ক্ষতি
অভিযোগ উঠেছে, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে বহু অযোগ্য ব্যক্তি নিয়মবহির্ভূতভাবে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন। মুখ্যসচিবের চিঠিতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, এই প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির কারণে সরকারি রাজকোষের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। তাই অযোগ্য উপভোক্তাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করতে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনী তালিকা বা এসআইআর থেকে বাদ পড়া নামের উপভোক্তাদের তথ্য খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। এই উপভোক্তাদের মধ্যে কারা অন্যায়ভাবে সুবিধা পেয়েছেন, তার বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। শুধু ‘বাংলার বাড়ি’ নয়, একশো দিনের কাজ (মনরেগা) এবং আয়ুষ্মান ভারতের মতো প্রকল্পেও দুর্নীতির অভিযোগ সরকারের নজরে এসেছে।
প্রকল্পের নিয়ম ও সম্ভাব্য প্রভাব
‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে বাড়ি তৈরির জন্য একটি পরিবারকে মোট ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়। নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়ার ১২ মাসের মধ্যে বাড়ির কাজ সম্পূর্ণ করা বাধ্যতামূলক। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এই প্রকল্পের টাকা প্রথমবার দেওয়া হয়েছিল, যা প্রথমে তিন কিস্তিতে এবং পরে দুই কিস্তিতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। রাজ্য সরকারের এই বর্তমান যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার ফলে একদিকে যেমন বিপুল সরকারি অর্থের অপচয় রোখা সম্ভব হবে, তেমনই বেআইনি সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের পথও প্রশস্ত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।