দুর্নীতির তদন্তে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত! কেন্দ্রীয় কর্মীদের জেরা করতে আর রাজ্যের অনুমতি লাগবে না

রাজ্যে কর্মরত কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী বা আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তদন্ত চালাতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে আর রাজ্য সরকারের আগাম অনুমতি নিতে হবে না। দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে সোমবার রাজ্যের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তরের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত একটি সুস্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। তবে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রে তদন্তের জন্য আগের মতোই নবান্নের আগাম লিখিত অনুমতি বাধ্যতামূলক থাকছে।
দুর্নীতি দমনে নয়া নীতি ও প্রভাব
বিগত সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় বা রাজ্য, যে কোনও সরকারি কর্মীর বিরুদ্ধে তদন্তের ক্ষেত্রেই নবান্নের সবুজ সংকেত নেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রেই দুর্নীতির তদন্ত প্রক্রিয়া থমকে থাকত। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছিলেন, পূর্বতন সরকার দুর্নীতিগ্রস্ত আমলাদের আড়াল করতে তদন্তে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র দেয়নি। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে নিয়োগ দুর্নীতি এবং সমবায় সমিতির তহবিল তছরূপের মতো আদালতের নির্দেশে হওয়া মামলাগুলিতে দোষী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তদন্তে রাজ্য এখন থেকে ছাড়পত্র দিচ্ছে। সরকারের এই নয়া পদক্ষেপের ফলে দুর্নীতির মামলাগুলিতে সিবিআইয়ের মতো সংস্থাগুলির তদন্ত প্রক্রিয়ায় বাধা কাটবে এবং বিচার প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য গতি আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তদন্তের পরিধি ও আইনি শর্ত
দিল্লি স্পেশ্যাল পুলিশ এস্টাবলিশমেন্ট আইন, ১৯৪৬-এর ৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী জারি করা এই নির্দেশিকায় তদন্তের পরিধি নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, সিবিআই এখন থেকে স্বাধীনভাবে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী, কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এবং এই সংক্রান্ত মামলায় জড়িত বেসরকারি ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত চালাতে পারবে। কিন্তু রাজ্য সরকারের কোনও কর্মী বা রাজ্যের অধীনস্থ সংস্থার কর্মীর বিরুদ্ধে তদন্তের ক্ষেত্রে নবান্নের পূর্বানুমতি ছাড়া সিবিআই সরাসরি কোনও পদক্ষেপ করতে পারবে না। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে রাজ্য সরকারের এই নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা ইতিমধ্যেই সিবিআই, রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।