আইএসএল পরিচালনায় ঐতিহাসিক বদল, ক্রীড়ামন্ত্রীর বৈঠকে বড় জয় পেল ক্লাবগুলি!

ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (আইএসএল) পরিচালনা নিয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের জটিলতা অবশেষে কাটতে চলেছে। সোমবার কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী ড. মনসুখ মাণ্ডব্যের সঙ্গে ক্লাব প্রতিনিধি এবং সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের (এআইএফএফ) কর্তাদের একটি হাইভোল্টেজ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে টুর্নামেন্ট পরিচালনার ক্ষেত্রে ক্লাবগুলির দাবিকে মান্যতা দিয়ে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে এককভাবে ফেডারেশন নয়, বরং ক্লাব ও ফেডারেশনের যৌথ কমিটিই পরিচালনা করবে আইএসএল। এর ফলে টুর্নামেন্টের লভ্যাংশ পাওয়ার ক্ষেত্রে ক্লাবগুলির দীর্ঘদিনের দাবি ও অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলো।
সংঘাতের কারণ ও ক্লাবগুলির আশঙ্কা
ফেডারেশনের বর্তমান সভাপতি কল্যাণ চৌবের নেতৃত্বাধীন কমিটি আগামী ২০ বছরের জন্য কমার্শিয়াল পার্টনার হিসাবে ‘জিনিয়াস স্পোর্টস’ নামের একটি সংস্থার হাতে আইএসএলের দায়িত্ব তুলে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু ক্লাবগুলির অভিযোগ ছিল, এই চুক্তির ফলে তাদের আর্থিক ক্ষতির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে এবং লভ্যাংশ পাওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্পষ্ট। এছাড়া আগামী ছয় মাসের মধ্যে ফেডারেশনের নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন কমিটি আসার আগেই এমন দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে নতুন বিনিয়োগকারী আনার পথ বন্ধ হয়ে যেত। এই পরিস্থিতিতে ফেডারেশনের ওপর আস্থা হারিয়ে ক্লাবগুলি প্রাক্তন সভাপতি প্রফুল প্যাটেলের মধ্যস্থতায় কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রকের দ্বারস্থ হয়। তারই পরিপ্রক্ষিতে ক্রীড়ামন্ত্রক এই জরুরি বৈঠক ডাকে।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত ও সম্ভাব্য প্রভাব
সোমবারের এই সিদ্ধান্তের পর জিনিয়াস স্পোর্টসের সঙ্গে ফেডারেশনের প্রস্তাবিত চুক্তিটি আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ক্লাব এবং ফেডারেশনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠিত হবে। আগামী আইএসএল কবে শুরু হবে এবং কার সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি করা হবে, সেই সমস্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার চূড়ান্ত ক্ষমতা থাকবে এই যৌথ কমিটির হাতেই।
এই সিদ্ধান্তের ফলে ঘরোয়া ফুটবলে ক্লাবগুলির অধিকার ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হলো। ফেডারেশনের একচেটিয়া সিদ্ধান্তের অবসান ঘটিয়ে ফুটবলের স্বার্থে যৌথ পরিচালনার এই মডেল আগামী দিনে আইএসএল-কে আরও পেশাদার ও লাভজনক করে তুলবে। একই সঙ্গে টুর্নামেন্ট শুরুর অনিশ্চয়তা কেটে যাওয়ায় স্বস্তিতে ফিরল ভারতীয় ফুটবল মহল।