ভেঙে চুরমার তৃণমূলের সংসদীয় দল! ২০ সাংসদ নিয়ে দলবদল প্রায় নিশ্চিত, শতাব্দী রায়ের দিল্লির বাড়িতে স্বয়ং শুভেন্দু!

তৃণমূলে মহাধস, ২০ সাংসদ নিয়ে দিল্লির শতাব্দী-শিবিরে হাজির মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু
লোকসভা নির্বাচনের পর এবার আরও বড় ভাঙনের মুখে পড়ল তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্য বিধানসভার পর এবার কার্যত ধূলিসাৎ হতে চলেছে দলটির সংসদীয় শক্তি। তৃণমূলের লোকসভার বিদায়ী বা বর্তমান সাংসদদের একটি বড় অংশ শিবির বদলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। তৃণমূলের হেভিওয়েট সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে মোট ২০ জন লোকসভা সাংসদ একযোগে দল ছাড়ছেন, যা দিল্লির রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন আলোড়ন তৈরি করেছে। ২০ জন সাংসদের সই সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি ইতিমধ্যেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বয়ং কাকলিদেবী।
এই চরম রাজনৈতিক নাটকীয়তার মধ্যেই সোমবার সন্ধ্যায় তৃণমূলের অন্যতম শীর্ষ বিদ্রোহী সাংসদ শতাব্দী রায়ের দিল্লির বাসভবন মূল যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। সেখানে একে একে এসে উপস্থিত হয়েছেন ক্ষুব্ধ ও বিদ্রোহী সাংসদেরা। তবে সবচেয়ে বড় চমক ছিল পশ্চিমবঙ্গ ও দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দে নতুন সমীকরণ তৈরি করা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতি। সোমবার রাতে শতাব্দীর বাসভবনে শুভেন্দু অধিকারী পৌঁছানোর পরই বিদ্রোহীদের নিয়ে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শুরু হয়েছে।
দিল্লি দরবারে বড় চাল ও ক্ষমতার হাতবদল
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের অভ্যন্তরে ক্ষোভের আগুন জ্বলছিল। লোকসভা দলটির এই বিশাল ভাঙন মূলত নেতৃত্বের প্রতি অসন্তোষ এবং দিল্লির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা টিকিয়ে রাখার লড়াই। কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং শতাব্দী রায়ের মতো শীর্ষ স্তরের নেত্রীরা যখন একসঙ্গে দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন, তখন স্পষ্ট হয়ে যায় যে ক্ষোভের শিকড় অত্যন্ত গভীরে। স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দেওয়ার অর্থ হলো, আইনি ও সাংবিধানিক দিক থেকে দলত্যাগ বিরোধী আইনকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত সংখ্যা এই বিদ্রোহী শিবিরের কাছে রয়েছে।
কী প্রভাব পড়তে চলেছে রাজ্য রাজনীতিতে?
তৃণমূলের সংসদীয় দলে এই ঐতিহাসিক ভাঙন দিল্লির পাশাপাশি বাংলার রাজনীতিতেও এক বিশাল সুনামি ডেকে আনতে চলেছে। লোকসভায় ২০ জন সাংসদ হারিয়ে রাতারাতি জাতীয় স্তরে নিজেদের গুরুত্ব হারাবে তৃণমূল কংগ্রেস। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই বিদ্রোহের পেছনে প্রত্যক্ষ মদত ও শতাব্দী রায়ের বাড়িতে স্বশরীরে উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, এই পুরো চালটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ছিল। এর ফলে একদিকে যেমন রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক ভিত পুরোপুরি নড়ে যাবে, তেমনই কেন্দ্রের শাসক শিবিরের হাত আরও শক্তিশালী হবে। আগামী দিনগুলোতে এই ২০ জন সাংসদ আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন কোনো দলে যোগ দেন নাকি আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন, এখন সেটাই দেখার।