‘গ্রেফতার তো হয়েইছেন, এত তাড়াহুড়ো কেন’, সুজিত বসুর দ্রুত শুনানির আর্জি খারিজ হাই কোর্টে

রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর গ্রেফতারি খারিজের মামলায় দ্রুত শুনানির আর্জি নাকচ করে দিল কলকাতা হাই কোর্ট। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর সোমবার তাঁর আইনজীবী জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু বিচারপতি কৃষ্ণ রাও স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, যখন তিনি ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন, তখন এই বিষয়ে এত তাড়াহুড়োর কোনও কারণ নেই।
আইনি লড়াই ও আদালতের পর্যবেক্ষণ
আদালতে সুজিত বসুর আইনজীবীর মূল যুক্তি ছিল, নিয়ম মেনে এই গ্রেফতারি হয়নি এবং গ্রেফতারের সঠিক কারণ অস্পষ্ট। যেহেতু তাঁর মক্কেল এখনও ইডি হেফাজতে রয়েছেন এবং তাঁকে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়নি, তাই দ্রুত এই গ্রেফতারি খারিজের মামলার শুনানি হওয়া প্রয়োজন। এর প্রেক্ষিতে বিচারপতি রাও প্রশ্ন তোলেন, ইতিমধ্যে গ্রেফতার হয়ে থাকলে মূল মামলায় আর কী পড়ে থাকে? আদালত তাঁকে গ্রেফতারিকে চ্যালেঞ্জ করার পরিবর্তে সরাসরি জামিনের আবেদন করার পরামর্শ দেয় এবং স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, জুলাই মাসে নিয়মমাফিক এই মামলার শুনানি হবে।
দুর্নীতির অভিযোগ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
গত ১১ মে দক্ষিণ দমদম পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে সুজিত বসুকে গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ইডি সূত্রে খবর, বেআইনিভাবে প্রায় ১৫০ জন চাকরিপ্রার্থীর নাম সুপারিশ করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এই দুর্নীতির বিপুল পরিমাণ টাকা কোন কোন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে গিয়েছে, বর্তমানে তার বিস্তারিত খোঁজ চালাচ্ছে ইডি। হাই কোর্টের এই নির্দেশের ফলে প্রাক্তন মন্ত্রীর আইনি জট আরও দীর্ঘায়িত হলো। দ্রুত শুনানির আবেদন খারিজ হওয়ায় আপাতত তাঁকে হেফাজতেই থাকতে হচ্ছে। এর ফলে আগামী দিনে ইডি এই মামলার আর্থিক লেনদেন ও অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যোগসূত্র খুঁজে বের করতে আরও কিছুটা সময় ও সুবিধা পেয়ে গেল।