টিকিট গ্যারান্টি ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা! ৩ প্রধান শর্তে বিজেপির পথে তৃণমূলের একঝাঁক সাংসদ

দিল্লির অলিন্দে মহানাটক, বড় শর্তে পদ্মশিবিরে যাওয়ার পথে তৃণমূলের ১৫ সাংসদ!
সোমাবার দুপুর থেকেই দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে শুরু হয়ে গেছে দলবদলের ইতিহাসের অন্যতম বড় মহানাটক। কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদবের দিল্লির বাসভবনে আয়োজিত একটি হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্ন ও দিল্লির সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, স্রেফ দলবদল নয়, জোড়াফুল ছাড়ার আগে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছ থেকে নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ সুনির্দিষ্ট শর্ত ও প্রতিশ্রুতি আদায় করে নিচ্ছেন তৃণমূলের এই সাংসদরা।
তিন প্রধান শর্তের জটিল সূত্র
মূলত তিনটি প্রধান শর্ত বা দাবির ভিত্তিতে এই মেগা দলবদল সম্পন্ন হতে চলেছে। প্রথম ও মৌলিক দাবি হিসেবে বিদ্রোহী সাংসদরা আগামী ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তাঁদের সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র থেকে আগাম ‘টিকিট গ্যারান্টি’ চাইছেন। দ্বিতীয়ত, তৃণমূল ছাড়ার পর রাজ্য সরকারের নিরাপত্তা চলে গেলে বাংলায় যে রাজনৈতিক আকচাকচির মুখে পড়তে হতে পারে, সেই আশঙ্কায় প্রত্যেকেই দিল্লির হাই-লেভেল কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা দাবি করেছেন। বিশেষ করে, যাঁরা আগে বড় সাংগঠনিক দায়িত্বে ছিলেন, তাঁরা আরও উচ্চমানের নিরাপত্তার ব্যবস্থা চাইছেন। তৃতীয় শর্ত হিসেবে, দলবদলের পুরস্কারস্বরূপ কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো বড় কমিশন বা কর্পোরেশনের (নিগম) চেয়ারম্যান পদের কুর্সিও দাবি করেছেন এক প্রভাবশালী নারী সাংসদ।
দলবদলের তালিকায় হেভিওয়েট নাম
বৈঠকের খবর অনুযায়ী, সরাসরি প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছেন কাকলি ঘোষদস্তিদার (বারাসাত), প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় (হাওড়া), শতাব্দী রায় (বীরভূম), অসিত মাল, বাপি হালদার (মথুরাপুর), জুন মালিয়া (মেদিনীপুর), জগদীশ বাসুনিয়া (কোচবিহার), কালিপদ সরেন (ঝাড়গ্রাম), অরূপ চক্রবর্তী (বাঁকুড়া), পার্থ ভৌমিক (ব্যারাকপুর) এবং শর্মিলা সরকার (বর্ধমান পূর্ব)।
এর পাশাপাশি, পর্দার আড়ালে আগেভাগেই দিল্লির সঙ্গে পাকা কথা সেরে রেখেছেন আরও চার তারকা সাংসদ। এঁদের মধ্যে রয়েছেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় (হুগলি), ইউসুফ পাঠান (বহরমপুর), দেব অধিকারী (ঘাটাল) এবং শত্রুঘ্ন সিনহা (আসানসোল)। এছাড়া আরও ৩ জন লোকসভা সাংসদ এই মুহূর্তে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে চূড়ান্ত পর্বের আলোচনায় রয়েছেন।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই নজিরবিহীন দলবদলের মূল কারণ হলো সাংসদদের নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করা এবং ক্ষমতার অলিন্দে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখা। কেন্দ্রের শাসকদলের টিকিট ও নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি পাওয়ার লোভেই এই বড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন তাঁরা। এই ঘটনা যদি সত্যি বাস্তবায়িত হয়, তবে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় শক্তিতে এক বড়সড় ধস নামবে। একইসঙ্গে লোকসভায় বিজেপির শক্তি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে, যা রাজ্যের আগামী রাজনৈতিক সমীকরণকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। শর্ত ও প্রতিশ্রুতির এই আদান-প্রদান ১০০% মিলে গেলে আজ বিকেলের মধ্যেই দিল্লির বুকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে চলেছে।