১০০ দিনের রণাঙ্গন! যুদ্ধবিরতি ভেঙে ফের মুখোমুখি ইরান-ইজরায়েল, মিসাইল হামলায় কাঁপছে মধ্যপ্রাচ্য

ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলায় কাঁপল মধ্যপ্রাচ্য, যুদ্ধবিরতি ভেঙে ফের রণক্ষেত্রে ইরান ও ইজরায়েল
মাত্র দু’মাস আগের যুদ্ধবিরতির চুক্তিকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও আছড়ে পড়েছে যুদ্ধের দামামা। রবিবার রাতে ইজরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ইরানের ঝাঁকে ঝাঁকে ব্যালিস্টিক মিসাইল নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে এই সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। লেবাননে হিজবুল্লাহর ঘাঁটিতে ইজরায়েলি অভিযানের প্রতিশোধ নিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড (আইআরজিসি)। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রতি-আক্রমণে ইজরায়েলও পাল্টা জবাব দিলে গোটা অঞ্চলে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলার পরপরই ইজরায়েলের বিস্তীর্ণ এলাকায় সাইরেন বাজিয়ে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
রুদ্ধ আকাশসীমা ও বিশ্ব রাজনীতিতে অস্থিরতা
নতুন করে যুদ্ধ শুরু হতেই সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তেহরানের ইমাম খোমেইনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ ইরানের সমগ্র পশ্চিমাংশের আকাশপথ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আঞ্চলিক উত্তেজনা আঁচ করতে পেরে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ইরাক ৭২ ঘণ্টা এবং সিরিয়া ১২ ঘণ্টার জন্য নিজেদের এয়ারস্পেস বা আকাশসীমা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে আমেরিকা দুটি ইরানি ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছে। আমেরিকার অবস্থান পরিবর্তনের কারণে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার কূটনৈতিক আলোচনা পুরোপুরি থমকে গেছে। ফলে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও বিদেশে আটকে থাকা কোটি কোটি ডলারের সম্পত্তি ফেরত পাওয়ার দাবিতে ইরান এখন আরও অনড় অবস্থান নিয়েছে।
শতদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের নেপথ্য কারণ
গত ১০০ দিনের ঘটনাক্রম বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-এর মৃত্যুর মাধ্যমে। এর জবাবে খামেনেই-এর অনুগত হিজবুল্লাহ ও হুথি বিদ্রোহীরা ইজরায়েলে ধারাবাহিক মিসাইল হামলা চালায়। পরবর্তী সময়ে খামেনেই-এর ছেলে মোজতবা খামেনেই ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতিরোধ আরও জোরদার হয়। এপ্রিলের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও পাকিস্তানে দুই পক্ষের বৈঠক কোনো স্থায়ী শান্তিচুক্তি আনতে ব্যর্থ হয়। মে মাসে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজের সুরক্ষায় মার্কিন ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ শুরু ও বন্ধের নাটকীয়তা এবং জুনের শুরুতে লেবাননের বোফোর্ট দুর্গ ইজরায়েল দখল করার পর থেকেই মূলত দুই দেশের যুদ্ধবিরতি ভাঙার ক্ষেত্র প্রস্তুত হচ্ছিল।
টানা একশো দিনের এই স্নায়ুযুদ্ধ ও সামরিক সংঘাতের ফলে বিশ্ব অর্থনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আকাশপথ বন্ধ হওয়া এবং হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথ অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ চেইন বিঘ্নিত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বিশ্বশক্তির সরাসরি হস্তক্ষেপের কারণে এই অঞ্চলের পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল। অবসান ঘটার পরিবর্তে এই সংঘাত আগামী দিনে কোন ভয়াবহ রূপ ধারণ করে, তা নিয়েই এখন বৈশ্বিক মহল চরম চিন্তিত।