ভাঙন-ভয়ের আবহেই দিল্লিতে বৈঠকে বসছে ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চ, সোনিয়ার পাশে বসে নজর কাড়লেন মমতা

তীব্র রাজনৈতিক টানাপোড়েন আর ভাঙনের আশঙ্কা সঙ্গী করেই ভারতের রাজধানী দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে শুরু হয়েছে বিজেপি বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। লোকসভা নির্বাচনের পর জাতীয় রাজনীতির এই হাইভোল্টেজ বৈঠকে দেশের ২৩টি বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকলেও, বেশ কয়েকটি বড় শরিকের অনুপস্থিতি জোটের অন্দরের ফাটলকে স্পষ্ট করে দিয়েছে। তামিলনাড়ুর শাসক দল ডিএমকে আগেই বৈঠক বয়কটের ডাক দিয়েছে, যার ফলে বৈঠকে দেখা যায়নি এম কে স্ট্যালিনকে। একইসঙ্গে বৈঠকে গরহাজির আম আদমি পার্টিও (আপ)। অন্যদিকে, আসন রফা নিয়ে ক্ষুব্ধ সিপিএম বৈঠকে যোগ দিলেও কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে কড়া চিঠি পাঠিয়েছে এবং ঝাড়খণ্ডের জেএমএম-ও কংগ্রেসের ওপর তাদের অসন্তোষ বজায় রেখেছে।
সোনিয়া-মমতা রসায়ন ও জাতীয় রাজনীতির নতুন সমীকরণ
শরিকি বিরোধের এই উত্তপ্ত আবহেই বৈঠকের মূল নজর কেড়েছে কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের রসায়ন। সর্বভারতীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক দৃশ্যে দেখা গেছে, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বসেছেন সরাসরি সোনিয়া গান্ধীর পাশে। তাঁর অপর পাশে ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের সময় দুই দলের মধ্যে তীব্র সংঘাত এবং একে অপরের বিরুদ্ধে প্রচারের তিক্ততা ভুলে এই ঘনিষ্ঠতা নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাজ্যে তৃণমূলের বিপর্যয়ের পর রাহুল গান্ধী নিজেই মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন, যার সূত্র ধরে কালীঘাটের বাড়ি থেকে বিজেপি বিরোধী সমস্ত দল, এমনকি বাম-অতিবামদেরও একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
ভবিষ্যতের রণকৌশল ও একের বিরুদ্ধে এক লড়াইয়ের প্রস্তাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠকের প্রধান কারণ হলো আগামী ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধীদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট এবং ঐক্যবদ্ধ রণকৌশল তৈরি করা। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সম্প্রতি ৫৮ জন বিধায়ক যেভাবে নিজেদের আলাদা ব্লক তৈরি করে দলের অন্দরে চাপ বাড়িয়েছেন, সংসদেও তৃণমূলের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে জাতীয় স্তরের এই মঞ্চকে এবার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই পরিস্থিতিতে জোটে ভাঙন রোধ করে ঐক্য ধরে রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বৈঠকে তৃণমূলের তরফ থেকে আগামী সাধারণ নির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে চূড়ান্ত ঐক্য নিশ্চিত করতে ‘একের বিরুদ্ধে এক’ প্রার্থী দেওয়ার কৌশলগত প্রস্তাব পেশ করা হতে পারে, যা কার্যকর হলে জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী শিবিরের শক্তি বহুগুণ বৃদ্ধি পেতে পারে।