মমতার হাতছাড়া সংসদীয় দলও, এনডিএ জোটে যোগ দিতে স্পিকারকে চিঠি ২০ তৃণমূল সাংসদের!

মমতার হাতছাড়া সংসদীয় দলও, এনডিএ জোটে যোগ দিতে স্পিকারকে চিঠি ২০ তৃণমূল সাংসদের!

বিধানসভার পর এবার লোকসভাতেও বড়সড় ধাক্কা খেলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জল্পনা সত্যি করে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি জমা দিলেন দলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ। সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে এই চিঠি জমা পড়েছে, যেখানে তাঁরা এনডিএ-র শরিক হতে চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন। এর ফলে পরিষদীয় দলের পর এবার সংসদীয় দলের রাশও হাতছাড়া হতে চলেছে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লিতে অবস্থান করার সময়ই এই নাটকীয় ভাঙন সম্পন্ন হয়।

ক্ষোভ ও দলত্যাগের নেপথ্য কারণ

তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ, দুর্নীতি এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলই এই লোকসভা দল ভাঙার প্রধান কারণ বলে জানা যাচ্ছে। বিদ্রোহী সাংসদদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি কোনো একদিনের ক্ষোভের প্রতিফলন নয়। কাটোয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় দুর্নীতি, জেলা সভাপতিদের একাংশের তরফ থেকে ক্রমাগত হেনস্তা এবং তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে কাজ করার পরিবেশ ছিল না। দলের অন্দরে অভিযোগ জানিয়েও কোনো সুরাহা হয়নি, বরং সাংসদ তহবিলের কাজ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে। এই বঞ্চনা ও ক্ষোভের জেরেই ২০ জন সাংসদ একসঙ্গে বৈঠক করে এনডিএ-কে সমর্থন জানানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।

রাজনৈতিক সমীকরণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই ভাঙনের ফলে জাতীয় ও রাজ্য রাজনীতিতে বড় ধরনের সমীকরণ বদলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। লোকসভায় তৃণমূলের ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জনই স্পিকারের কাছে পৃথক বসার আর্জি জানানোয় এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে মুখ্য সচেতক হিসেবে দাবি করায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভার দলনেতার পদ হারাতে পারেন। নিয়ম অনুযায়ী স্পিকারের স্বীকৃতি মিললে লোকসভায় এই বিদ্রোহী অংশই ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে গণ্য হতে চলেছে। এর আগে রাজ্য বিধানসভাতেও ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জন দল ছেড়েছেন। ফলে এই নতুন পদক্ষেপের পর আগামী দিনে জোড়াফুল প্রতীকের অধিকার নিয়েও নির্বাচন কমিশনে আইনি লড়াই শুরু হতে পারে, যা শাসক দল তৃণমূলের অস্তিত্বের জন্য বড় সংকট তৈরি করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *