দিল্লিতেও বড়সড় ভাঙনের মুখে তৃণমূল, হাতছাড়া হতে পারে লোকসভার সিংহভাগ আসন!

দিল্লিতেও বড়সড় ভাঙনের মুখে তৃণমূল, হাতছাড়া হতে পারে লোকসভার সিংহভাগ আসন!

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা হাতছাড়া হওয়ার পর এবার দেশের রাজধানী দিল্লিতেও নজিরবিহীন ভাঙনের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)। সোমবার সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের দিল্লির বাসভবনে হাজির হন তৃণমূলের একাধিক বিদ্রোহী সাংসদ। দুপুরে সেখানে পৌঁছান পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, তাঁদের সঙ্গে মোট ২০ জন দলীয় সাংসদের স্বাক্ষর বা সমর্থন রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফরের আবহেই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় ও রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

দিল্লির বৈঠকে সাংসদদের ভিড় ও দলত্যাগ বিরোধী আইনের অঙ্ক

রাজনৈতিক সূত্র মারফত জানা গেছে, সোমবার সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর আবাসে তৃণমূলের ৫ থেকে ৬ জন বিদ্রোহী সাংসদ উপস্থিত ছিলেন। দুপুরের দিকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সেখানে প্রবেশ করার পর লোকসভার মোট ১৪ জন তৃণমূল সাংসদ তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। প্রকাশ্যে আসা ছবি অনুযায়ী, এই বিদ্রোহীদের মধ্যে রয়েছেন পূর্ব বর্ধমানের সাংসদ শর্মিলা সরকার, হাওড়ার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, কোচবিহারের জগদীশ বসুনিয়া, ঝাড়গ্রামের কালীপদ সোরেন এবং বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী।

বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূলের মোট ২৯ জন সাংসদ রয়েছেন। ভারতের দলত্যাগ বিরোধী আইনের হাত থেকে বাঁচতে এবং সাংসদ পদ টিকিয়ে রাখতে দলছুট শিবিরের জন্য অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ২০ জন সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে ১৪ জন সাংসদ সরাসরি উপস্থিত হলেও, বিদ্রোহীদের দাবি অনুযায়ী তাঁদের হাতে ২০ জনের সই রয়েছে। আইনগত জটিলতা এড়াতে আরও কয়েকজন সাংসদের সমর্থন এই শিবিরের জন্য অত্যন্ত জরুরি। অন্যদিকে, লোকসভার পাশাপাশি রাজ্যসভাতেও দলের ভাঙন স্পষ্ট হয়েছে। রাজ্যসভার বর্ষীয়ান সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় ইতিমধ্যেই পদ ও দল ছেড়েছেন, এবং অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিককে নিয়েও তীব্র রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হয়েছে।

তৃণমূলের বিপর্যয় ও নতুন সমীকরণ

এই নজিরবিহীন ভাঙনের নেপথ্যে মূলত রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন এবং তৃণমূলের অভ্যন্তরে তৈরি হওয়া তীব্র নেতৃত্বসংকটকে দায়ী করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিধানসভায় হারের পর থেকেই দিল্লির সাংসদদের একাংশ নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছিলেন। এই ভাঙন যদি চূড়ান্ত রূপ নেয়, তবে জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের গুরুত্ব এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে যাবে। বিশেষ করে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে যোগ দিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন দিল্লিতে অবস্থান করছেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই এই ঘটনা তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর বড় ধাক্কা দিল। এর ফলে লোকসভা ও রাজ্যসভা—উভয় কক্ষেই তৃণমূলের শক্তি যেমন হ্রাস পাবে, তেমনই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতেও নতুন শাসক শিবিরের কর্তৃত্ব আরও মজবুত হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *