ইন্ডিয়া জোটেই শেষ বাজি মমতার, দিল্লিতে ৫ দফায় ঐকমত্যে বিরোধীরা!

জাতীয় রাজনীতির ওঠাপড়ার মধ্যেই ফের নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠল বিরোধী শিবির। সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের মঞ্চেই নিজের শেষ বাজি রাখলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে আয়োজিত হাইভোল্টেজ বৈঠকে ২৫টি বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা হাজির হয়ে একজোটে লড়ার বার্তা দিলেন। আঞ্চলিক রাজনীতির টানাপোড়েন ভুলে জোটের ঐক্য বজায় রাখতে এবং মোদী সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে একগুচ্ছ বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এই বৈঠকে।
পাঁচ দফায় ঐকমত্য ও সিআইআর নিয়ে বড় পদক্ষেপ
বৈঠক শেষে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে জানান, দীর্ঘ আলোচনার পর জোটের ২৫টি শরিক দল ৫টি জ্বলন্ত ইস্যুতে একমত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ‘সিআইআর’ (SIR) এবং ভোটে কারচুপির অভিযোগ। এই বিষয়ে দেশের প্রধান বিচারপতির (CJI) কাছে যৌথ স্মারকলিপি জমা দেবে ইন্ডিয়া জোট। এর পাশাপাশি, নিট (NEET) সহ শিক্ষাক্ষেত্রের একাধিক দুর্নীতিকে হাতিয়ার করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা দাবি করেছে বিরোধী শিবির। বেকারত্ব, কর্মসংস্থানের অভাব এবং লাগামছাড়া দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির মতো গণমুখী বিষয়গুলি নিয়ে সংসদের আসন্ন অধিবেশনে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আলোচনার দাবি জানানো হবে।
মমতার ভরসা ও জোটের ভবিষ্যৎ রণকৌশল
২০২৩ সালে পটনা থেকে যাত্রা শুরু করার পর একাধিক আঞ্চলিক দলের দলবদল জোটের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। তবে রবিবারের এই বৈঠক প্রমাণ করল, দিল্লির মসনদকে চ্যালেঞ্জ জানাতে মমতাসহ অন্যান্য আঞ্চলিক নেতারা এখনও এই জোটের ওপরেই চূড়ান্ত ভরসা রাখছেন। বৈঠকে সোনিয়া গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব এবং তেজস্বী যাদবদের উপস্থিতি জোটের সলিলসমাধি ঘটার জল্পনাকে উড়িয়ে দিয়েছে। সমন্বয় বাড়াতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, এবার থেকে প্রতি দু’মাস অন্তর ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আগামী আগস্ট মাসে হায়দরাবাদে পরবর্তী বৈঠকের দিন ধার্য করা হয়েছে। এর ফলে আসন্ন বর্ষাকালীন অধিবেশনেও বিরোধী দলগুলি আরও সুসংহত উপায়ে সরকারকে কোণঠাসা করতে পারবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।