ইউরোপের চেয়ে কোনো অংশে কম নয় ভারতের এই ৫ হ্রদবেষ্টিত পার্বত্য শহর

ইউরোপের চেয়ে কোনো অংশে কম নয় ভারতের এই ৫ হ্রদবেষ্টিত পার্বত্য শহর

একঘেয়ে দৈনন্দিন জীবন আর শহরের কোলাহল থেকে মুক্তি পেতে প্রকৃতির কোলে শান্তিতে সময় কাটাতে ভালোবাসেন কমবেশি সব পর্যটকই। আর সেই ভ্রমণের অভিজ্ঞতা যদি একই সঙ্গে সবুজ পাহাড় এবং শান্ত-স্নিগ্ধ হ্রদের মেলবন্ধন ঘটিয়ে দেয়, তবে তা হয়ে ওঠে আরও মায়াবী। বিশ্বমানের এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখন আর বিপুল অর্থ খরচ করে ইউরোপ যাওয়ার প্রয়োজন নেই। ভারতের বুকেই লুকিয়ে রয়েছে এমন ৫টি অনন্য হিল স্টেশন, যা রূপের দিক থেকে অনায়াসে টেক্কা দিতে পারে বিদেশি পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে।

পাহাড় ও হ্রদের মায়াবী মেলবন্ধন

ভারতের হ্রদবেষ্টিত পার্বত্য শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম শীর্ষ আকর্ষণ উত্তরাখণ্ডের নৈনীতাল। নাশপাতির আকৃতির সুবিশাল ও বিশ্ববিখ্যাত নৈনী হ্রদকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে এই পর্যটন কেন্দ্র। চারদিকের সবুজ পাহাড় ঘেরা এই হ্রদের শান্ত জলে নৌকাবিহার এবং সন্ধ্যায় জলের বুকে পাহাড়ি আলোর প্রতিফলন পর্যটকদের বিশেষভাবে মোহিত করে। মার্চ থেকে জুন এবং সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর মাস এখানে ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে আদর্শ সময়। অন্যদিকে, মরুরাজ্য রাজস্থানের একমাত্র হিল স্টেশন মাউন্ট আবুর নকিল হ্রদও পর্যটন মানচিত্রে সমাদৃত। সুউচ্চ ও অদ্ভুত পাথুরে পাহাড়ের খাঁজে অবস্থিত এই হ্রদের শান্ত জল এবং চারপাশের মনোরম পরিবেশ দারুণ আকর্ষণীয়। অক্টোবর থেকে মার্চ মাসের মধ্যে এখানকার আবহাওয়া সবচেয়ে মনোরম থাকে।

দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুর পালানি পাহাড়ের কোলে অবস্থিত কোডাইকানাল হ্রদটি তার অনন্য তারার মতো আকৃতির জন্য পরিচিত। ভোরের হালকা কুয়াশার চাদরে ঢাকা এই হ্রদের চারপাশে সাইকেল চালানো বা ঘোড়ায় চড়ার অভিজ্ঞতা পর্যটকদের দীর্ঘদিনের ক্লান্তি দূর করে। এই রাজ্যে আরও রয়েছে ‘নীলগিরির রানি’ খ্যাত উটি। সেখানকার কৃত্রিম উটি হ্রদটি নীলগিরির সবুজ ইউক্যালিপটাস জঙ্গল দ্বারা পরিবেষ্টিত, যা দর্শনার্থীদের এক অদ্ভুত মানসিক শান্তি প্রদান করে। এছাড়া উত্তর-পূর্ব ভারতের মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ের ওয়ার্ডস লেকও তার শান্ত পরিবেশ, কাঠের সেতু এবং চারপাশের সবুজ বাগানের জন্য বিখ্যাত। নিরিবিলিতে ছুটি কাটানোর জন্য সেপ্টেম্বর থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যে এই স্থানটি একেবারে স্বর্গরাজ্য হয়ে ওঠে।

পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও অর্থনৈতিক প্রভাব

সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সাশ্রয়ী খরচে আন্তর্জাতিক মানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ থাকায় এই হিল স্টেশনগুলোতে প্রতি বছরই পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে। গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহ থেকে বাঁচতে সমতলের মানুষের এই পার্বত্য শহরগুলোর দিকে ছুটে যাওয়ার প্রবণতা দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটন শিল্পকে ব্যাপকভাবে চাঙ্গা করছে। ফলে স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি হোটেল, পরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতে ইতিবাচক অর্থনৈতিক প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *