তৃণমূলে ঐতিহাসিক ভাঙন! এনডিএ-তে যোগ দিতে ওম বিড়লাকে ২০ সাংসদের চিঠি

দলবদলের জল্পনায় তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি, লোকসভায় কি ভাঙনের মুখে মমতা শিবির?
জাতীয় রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন নাটকীয়তার ইঙ্গিত মিলেছে। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে তৃণমূল কংগ্রেসের একদল বিক্ষুব্ধ সাংসদের চিঠি পাঠানোর খবর প্রকাশ হতেই দেশের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, তৃণমূলের এক বড় অংশ এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন মূল দল থেকে বেরিয়ে এসে লোকসভায় সম্পূর্ণ আলাদা একটি গোষ্ঠী তৈরি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তৃণমূলের অন্তত ২০ জন লোকসভা সাংসদ এই চিঠিতে সই করেছেন এবং তাঁরা ক্ষমতাসীন এনডিএ (NDA) জোটের অংশ হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে চান।
তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় ফাটল
এই আকস্মিক পদক্ষেপের পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে দলের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ এবং নীতিগত মতবিরোধ। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের সাথে অনেক সাংসদই বেশ কিছুদিন ধরে দূরত্ব বজায় রাখছিলেন। নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে এবং জাতীয় স্তরে ক্ষমতাসীন জোটের সুনজরে আসতেই এই বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীটি এমন চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। লোকসভার স্পিকারের কাছে এই আবেদন গৃহীত হলে তা তৃণমূলের সংসদীয় শক্তির ভিত নাড়িয়ে দেবে।
পরিবর্তিত সমীকরণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
যদি ২০ জন সাংসদের এই দলছুট হওয়ার খবর সত্যি প্রমাণিত হয়, তবে লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের শক্তি মারাত্মকভাবে হ্রাস পাবে। বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূলের আসন সংখ্যার সিংহভাগই যদি হাতছাড়া হয়, তবে সংসদের অন্দরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে পড়ে থাকবেন মাত্র ৯ জন সাংসদ। এর ফলে জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের দর কষাকষির ক্ষমতা যেমন কমবে, তেমনই বিরোধী জোটের অন্দরেও দলটির ওজন হ্রাস পাবে।
অন্য দিকে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণেও এর একটি বড় প্রভাব পড়তে চলেছে। বর্তমানে রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) লোকসভা সাংসদের সংখ্যা ১২। তৃণমূলের এই বড় অংশটি যদি এনডিএ শিবিরের দিকে ঝুঁকে পড়ে, তবে সংসদের ভেতরে ও বাইরে বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যাবে। এই ভাঙন প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত দলত্যাগ বিরোধী আইনের জটিলতা এড়াতে পারে কি না, এবং স্পিকার এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ নেন, এখন সেটাই দেখার।