তৃণমূলে মহাবিপর্যয়! এনডিএ-তে ২০ সাংসদ, বিধানসভায় আলাদা ব্লক; চরম সংকটের মাঝেও সম্পূর্ণ নীরব মমতা

দিল্লির বৈঠকেও নীরব মমতা, রাজ্য রাজনীতিতে চরম নাটকীয়তার মাঝে তুঙ্গে জল্পনা!
নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে হাইপ্রোফাইল ‘INDI’ জোটের বৈঠক শেষ করে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে জাতীয় স্তরের এই মেগা বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলেও পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সম্পূর্ণ মৌনব্রত পালন করেছেন তিনি। রাজ্য রাজনীতি যখন এক নজিরবিহীন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই তৃণমূল সুপ্রিমোর এই রহস্যময় নীরবতা রাজনৈতিক মহলে সাড়া ফেলে দিয়েছে।
দলের অন্দরে ভাঙন ও তীব্র সংকট
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল এক চরম অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখোমুখি। একদিকে তৃণমূলের ২০ জন প্রভাবশালী সাংসদ বিরোধী এনডিএ জোটে যোগ দেওয়ার জল্পনা তীব্র হয়েছে, অন্যদিকে বিধানসভায় ৫৮ জন বিধায়ক সম্পূর্ণ আলাদা একটি ব্লক গঠন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দলের এই সম্ভাব্য ভাঙন ও সাংগঠনিক বিপর্যয় নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি। এমনকি তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত নেতা ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক গোপন বৈঠক নিয়েও কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি তিনি।
নীরবতার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নীরবতা আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি সুচিন্তিত কৌশল হতে পারে। দলের ভেতরের সমীকরণ কোন দিকে যাচ্ছে তা পুরোপুরি নিশ্চিত না হয়ে কোনো মন্তব্য করে তিনি পরিস্থিতি আরও জটিল করতে চাইছেন না। তবে এই দীর্ঘ নীরবতার প্রভাব রাজ্য রাজনীতিতে বেশ গভীর হতে পারে। দলনেত্রীর কাছ থেকে স্পষ্ট কোনো বার্তা না পেয়ে তৃণমূলের নিচু তলার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ বাড়ছে। একই সঙ্গে, এই সুযোগে বিরোধী শিবিরও তাদের চাপ বাড়ানোর কৌশল তৈরি করছে, যা আগামী দিনে রাজ্যের ক্ষমতা বিন্যাসে বড়সড় রদবদল ঘটাতে পারে।