‘দলটাই তো খুঁজে পাচ্ছি না…’ সাঁইথিয়া পুরসভার পুরপ্রধান সহ ১৪ কাউন্সিলারের গণ-ইস্তফায় বীরভূমে তৃণমূলের মহাধস!

দলটাই তো খুঁজে পাচ্ছি না! সাঁইথিয়া পুরসভার পুরপ্রধানসহ ১৪ কাউন্সিলারের আকস্মিক পদত্যাগ
রাজ্যে পুরসভাগুলোতে একের পর এক ভাঙনের ধাক্কা এবার এসে পৌঁছাল বীরভূমে। চার বছর আগে কার্যত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী সাঁইথিয়া পুরসভা আচমকাই হাতছাড়া হলো তৃণমূল কংগ্রেসের। সোমবার সিউড়ির মহকুমা শাসকের দপ্তরে গিয়ে পুরপ্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বিপ্লব দত্ত ওরফে হাপা। তাঁর দেখাদেখি পুরসভার মোট ১৬ জন কাউন্সিলারের মধ্যে ১৪ জনই নিজেদের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। গণ-পদত্যাগের এই ঘটনায় জেলা তো বটেই, রাজ্যের রাজনৈতিক মহলেও তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্ব ও বিভ্রান্তি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন সদ্য প্রাক্তন পুরপ্রধান বিপ্লব দত্ত। তিনি জানান, দলের বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি চরম গোলকধাঁধায় পড়েছেন এবং কোনটা আসল আর কোনটা নকল তৃণমূল, তা আর বুঝে উঠতে পারছেন না। দলটাই যেন কোথাও হারিয়ে গেছে। দলের এই চরম ভাগাভাগি ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণেই তিনি কাউন্সিলর ও চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তৃণমূল প্রত্যাখ্যান ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
এই গণ-ইস্তফার পেছনে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের একটি বড় প্রভাব রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচনী ফলাফলের ইঙ্গিত টেনে প্রাক্তন পুরপ্রধান স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, সাধারণ মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এই বাস্তবতাকে মেনেই তিনি পদত্যাগের পথ বেছে নিয়েছেন। তাঁর এই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের পরপরই অন্য ১৪ জন কাউন্সিলারও দলবদ্ধভাবে পদত্যাগ করেন। যদিও দলের এই নজিরবিহীন ভাঙন নিয়ে শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে চাননি তিনি।
২০২২ সালের পুরভোটে সাঁইথিয়ার ১৬টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৩টিতেই কোনো বিরোধী প্রার্থী ছিল না, বাকি ৩টিতে বামেরা লড়েছিল। ফলে প্রায় বিনা বাধায় গঠিত হওয়া এই পুরবোর্ডের এভাবে পতন শাসক শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বীরভূমের এই ঘটনা রাজ্যের বর্তমান শাসক দলের অভ্যন্তরীণ ফাটলকে আরও স্পষ্ট করে তুলল, যার প্রভাব আগামী দিনে স্থানীয় প্রশাসনেও পড়তে বাধ্য।