টাকার বৃষ্টি ২০২৬ বিশ্বকাপে! ৫০% বাড়ল প্রাইজমানি, চ্যাম্পিয়ন দল পাবে রেকর্ড অর্থ

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে টাকার বৃষ্টি, এক লাফে ৫০ শতাংশ বাড়ল পুরস্কারমূল্য!
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফুটবল মহাযজ্ঞ শুরুর প্রাক্কালে এক অভূতপূর্ব নজির গড়ল বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা ফিফা। আগামী ১১ জুন থেকে আমেরিকা, মেক্সিকো এবং কানাডার যৌথ উদ্যোগে শুরু হতে চলা ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর জন্য পুরস্কারের অঙ্ক আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় এবারের প্রতিযোগিতায় মোট পুরস্কারমূল্য প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
ফিফা সূত্রের খবর, ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য মোট ৭২ কোটি ৭০ লক্ষ ডলার আর্থিক পুরস্কারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। বিগত আসরে যেখানে মোট পুরস্কারমূল্য ছিল ৪৪ কোটি ডলার, এবার তা এক লাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫ কোটি ৫০ লক্ষ ডলার। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ প্রতিযোগিতার পরিধি এবং ফরম্যাটের আমূল পরিবর্তন। ১৯৯৮ সাল থেকে ৩২টি দলের অংশগ্রহণে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হলেও, এবারই প্রথম ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৪৮টি দেশ বিশ্বমঞ্চে লড়াইয়ে নামবে।
পুরস্কারের অঙ্কে নতুন রেকর্ড
এবারের আসরে বিশ্বজয়ী দল ট্রফির পাশাপাশি ঘরে তুলবে ৫ কোটি ডলার। রানার্স-আপ দলের ঝুলিতে যাবে ৩ কোটি ৩০ লক্ষ ডলার। এ ছাড়া তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানাধিকারী দল পাবে যথাক্রমে ২ কোটি ৯০ লক্ষ এবং ২ কোটি ৭০ লক্ষ ডলার। নকআউট পর্বের প্রতিটি স্তরেই পুরস্কারের মোটা অঙ্ক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কোয়ার্টার ফাইনাল, শেষ ১৬ এবং শেষ ৩২ থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলি যথাক্রমে ১ কোটি ৯০ লক্ষ, ১ কোটি ৫০ লক্ষ এবং ১ কোটি ১০ লক্ষ ডলার করে পাবে। এমনকি গ্রুপ পর্ব পার করতে ব্যর্থ হওয়া দলগুলির জন্যও থাকছে ৯০ লক্ষ ডলারের সান্ত্বনা পুরস্কার। এর বাইরে যোগ্যতা অর্জন করা প্রতিটি দল অংশগ্রহণের জন্য অগ্রিম ১৫ লক্ষ ডলার পাবে, যার ফলে গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে যাওয়া একটি দলও ন্যূনতম ১ কোটি ৫০ লক্ষ ডলারের বেশি অর্থ নিশ্চিত করতে পারছে।
ফরম্যাটের পরিবর্তন ও দূরপ্রসারী প্রভাব
দলের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে খেলার পুরো কাঠামোতেই বড় বদল এসেছে। ৩২টি দলের পরিবর্তে এবার ৪৮টি দলকে মোট ১২টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে, যেখানে প্রতি গ্রুপে থাকছে ৪টি করে দল। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল সরাসরি শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেবে। এর পাশাপাশি, গ্রুপ পর্বে তৃতীয় স্থানে থাকা সেরা আটটি দলও নকআউট পর্বে যাওয়ার সুযোগ পাবে, যা প্রতিযোগিতাকে আরও আকর্ষণীয় ও দীর্ঘমেয়াদি করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, পুরস্কারের এই বিপুল বৃদ্ধি এবং দলের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বিশ্ব ফুটবলে এক বৈপ্লবিক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে ছোট এবং উদীয়মান ফুটবল খেলুড়ে দেশগুলি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করলেই যে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাবে, তা তাদের ঘরোয়া ফুটবলের পরিকাঠামো উন্নয়ন ও তৃণমূল স্তরে প্রতিভা অন্বেষণে বড় ভূমিকা রাখবে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর মতে, বর্তমানের শক্তিশালী আর্থিক অবস্থানের কারণেই ফুটবল থেকে উপার্জিত অর্থ পুনরায় বিশ্ব ফুটবলের সার্বিক উন্নয়নের কাজে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে খেলাটিকে আরও জনপ্রিয় করে তুলবে।