“পরিবার কাউকে মুখ দেখাতে পারছে না” – আত্মহত্যার আগে মর্মান্তিক ভিডিও ও সুইসাইড নোটে ব্ল্যাকমেইলের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ!

মধ্যপ্রদেশ: পন্না জেলার অজয়গড় থানার অন্তর্গত লোধা পুরওয়া গ্রামের এক বি.এসসি (B.Sc) টপার ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় এক নতুন ও চাঞ্চল্যকর মোড় এসেছে। মৃত্যু নিশ্চিত করার আগে ওই ছাত্রী কেবল একটি ভিডিওই তৈরি করেনি, সাথে একটি সুইসাইড নোটও লিখে রেখে গেছে।
বর্তমানে ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে সৃষ্টি মিশ্র (ওরফে প্রিয়া) নামের ওই ছাত্রী অভিযোগ করেছে যে, বিনা (Bina) নিবাসী বাদকু সিং নামক এক যুবক তাকে তীব্রভাবে উত্যক্ত করত। ভিডিওতে সে আক্ষেপ করে বলেছে, “সে আমার সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ আচরণ করেছে, যার ফলে আমার এবং আমার পরিবারের পক্ষে আর কারো সামনে মুখ দেখানো সম্ভব নয়। আমাকে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে, আর সেই কারণেই আমি এই চরম পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছি।” তার এই বয়ান মামলাটিকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং পুলিশ তদন্ত প্রক্রিয়া জোরদার করেছে।
বাবার আর্তনাদ
ছাত্রীর বাবার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিনা নিবাসী ওই যুবক তার মেয়ের সঙ্গে কথা বলার জন্য ক্রমাগত চাপ দিত। মেয়েটি অনেকবার তা প্রত্যাখ্যান করা সত্ত্বেও যুবকটি থামেনি। এমনকি তার বাবা নিজেও তাকে সতর্ক করেছিলেন। তবুও যুবকটি ফোনে কথা বলার জন্য বারবার চাপ সৃষ্টি করত এবং কিছু ভিডিও ভাইরাল করে সম্মান নষ্ট করার হুমকি দিত। শুক্রবার সন্ধ্যায় সৃষ্টির শরীর খারাপ হলে এবং সে বমি করতে শুরু করলে পরিবারের সদস্যরা বুঝতে পারেন যে সে বিষপান করেছে। অবস্থার অবনতি হলে রেওয়ায় নিয়ে যাওয়ার পথে সে মারা যায়। শনিবার পন্না জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর, তার বাবা সুরেশ মিশ্র অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি ও ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ মামলা নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করেছে।
আসলে কী ঘটেছিল?
পন্না জেলার অজয়গড় এলাকার ২২ বছর বয়সী বি.এসসি ফাইনাল ইয়ারের এই টপার ছাত্রী আত্মঘাতী হয়েছে। মেধাবী হিসেবে পরিচিত এই ছাত্রীর মৃত্যুতে পরিবারের মধ্যে তীব্র শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ওই যুবক ধারাবাহিকভাবে ব্ল্যাকমেইল এবং মানসিকভাবে হেনস্থা করছিল। এই তীব্র মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে ছাত্রীটি বিষপান করে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পুলিশ বর্তমানে এই মামলার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছে।