বুলডোজার প্রতিরোধে রণক্ষেত্র যাদবপুর, অবশেষে আদালত থেকে জামিন পেলেন সৃজন ভট্টাচার্য

বুলডোজার প্রতিরোধে রণক্ষেত্র যাদবপুর, অবশেষে আদালত থেকে জামিন পেলেন সৃজন ভট্টাচার্য

যাদবপুর স্টেশন চত্বরে হকার উচ্ছেদের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝে অবশেষে বড় স্বস্তি পেল বাম শিবির। সোমবার দুপুরে আলিপুর আদালত থেকে জামিন পেলেন এসএফআই-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্যসহ অন্যান্য আন্দোলনকারীরা। সৃজনের জামিনের খবর আসতেই আদালত চত্বরে উপস্থিত বাম কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ও উল্লাস দেখা যায়। এর আগে রেলের সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে জামিন অযোগ্য ধারাসহ মোট ৭টি মামলায় সৃজনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।

মধ্যরাতে তুলকালাম এবং প্রতিরোধ

ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল রবিবার রাতে, যখন যাদবপুর স্টেশন রোডের হকারদের দোকান ভাঙতে আকস্মিকভাবে রেলের বুলডোজার হাজির হয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই উচ্ছেদ রুখতে সাধারণ মানুষ এবং হকারদের পাশে এসে দাঁড়ান সুজন চক্রবর্তী ও সৃজন ভট্টাচার্যের মতো প্রথম সারির বাম নেতারা। বুলডোজার আটকাতে আন্দোলনকারীরা রাস্তার ওপর শুয়ে পড়ে তুমুল প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ, আরপিএফ এবং বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী গোটা এলাকা ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলে বেপরোয়া লাঠিচার্জ শুরু করে। পুলিশের লাঠির আঘাতে রক্তাক্ত হন সুজন চক্রবর্তীসহ একাধিক কর্মী। এই রণক্ষেত্রের মাঝখান থেকেই সৃজন ভট্টাচার্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ ভ্যানে তোলা হয়।

উচ্ছেদের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই সংঘাতের মূল কারণ হলো রেল কর্তৃপক্ষের কোনো রকম পুনর্বাসন ছাড়াই হকার উচ্ছেদের আকস্মিক সিদ্ধান্ত। গ্রেফতার হওয়ার সময় ক্ষোভ উগরে দিয়ে সৃজন ভট্টাচার্য অভিযোগ করেন, রেল কর্তৃপক্ষ দেশের আইন ও আদালতকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রাতের অন্ধকারে এই বেআইনি উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে। গরিব মানুষের রুটি-রুজির এই লড়াইয়ে তারা ভবিষ্যতেও পাশে থাকবেন বলে জানান।

এই ঘটনার প্রভাব ইতিমধ্যেই শহরের বুকে পড়তে শুরু করেছে। সৃজনদের গ্রেফতারির খবর ছড়াতেই ভোররাত থেকে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যাদবপুর এলাকা। সুকান্ত সেতু এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেটের সামনে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ছাত্রছাত্রীরা। হকারদের জীবিকার অধিকার এবং পুনর্বাসনের এই দাবিকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে ছাত্র-যুবদের এই আন্দোলন আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে, যা ওই অঞ্চলের আইন-শৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *