আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের প্রস্তুতি তুঙ্গে! পুরুলিয়ায় জেলাশাসক সহ শীর্ষ আধিকারিকদের যোগাভ্যাস

আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের প্রাক্কালে যোগাভ্যাসে মেতে উঠলেন পুরুলিয়ার প্রশাসনিক কর্তারা!
আগামী ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। তার আগেই পুরুলিয়ায় শুরু হয়ে গেল এর প্রস্তুতি। সোমবার সকালে পুরুলিয়া সার্কিট হাউসের সবুজ মাঠে জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের নিয়ে আয়োজন করা হয়েছিল একটি বিশেষ যোগ ব্যায়াম অনুশীলন শিবিরের। যেখানে যোগ প্রশিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে দীর্ঘ ৪৫ মিনিট ধরে যোগ ব্যায়ামের বিভিন্ন মুদ্রা ও তার খুঁটিনাটি রপ্ত করলেন খোদ জেলাশাসক থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসনের অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।
মনোরম পরিবেশে আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ শিবিরে অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে অংশগ্রহণ করেন পুরুলিয়ার জেলাশাসক সুধীর কোন্তম, জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডঃ অশোক বিশ্বাস, জেলা বনাধিকারিক অঞ্জন গুহ, অতিরিক্ত জেলাশাসক পূরবী মাহাতো, পুরুলিয়া সদর মহকুমা শাসক উৎপল কুমার ঘোষ সহ আরও অনেকে। আন্তর্জাতিক যোগা প্রটোকল মেনেই এই বিশেষ অনুশীলনের আয়োজন করা হয়েছিল। জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের পাশাপাশি পরবর্তীতে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী, বয়স্ক নাগরিক, মহিলা এবং বিভিন্ন পেশার মানুষদেরও এই যোগ ব্যায়াম অনুশীলন করানো হয়।
শারীরিক সুস্থতা ও সচেতনতার বার্তা
বর্তমানে আধুনিক জীবনযাত্রার কারণে স্ট্রোক, ডায়াবেটিস কিংবা হাইপার টেনশনের মতো অসংক্রামক ব্যাধি (নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ) আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, এই ধরণের শারীরিক সমস্যাগুলো নিয়মিত সঠিক যোগ মুদ্রার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ ও নিরাময় করা সম্ভব। প্রশিক্ষকদের নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিদিন নিয়ম মেনে ৪৫ মিনিট যোগাভ্যাস করলে শরীর ও মন দুই-ই সুস্থ থাকে। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগের মূল কারণই হলো সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং যোগ দিবসকে সামনে রেখে সুস্থ জীবনযাত্রার বার্তা পৌঁছে দেওয়া।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য প্রভাব
প্রশাসনিক স্তরে শুরু হওয়া এই যোগাভ্যাসের ইতিবাচক প্রভাব পড়তে চলেছে সমগ্র জেলা জুড়েই। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে যে, জেলাশাসকের নেতৃত্বে আগামী দিনে যদি জেলা জুড়ে এই যোগাভ্যাসকে একটি নিয়মিত আন্দোলনে রূপ দেওয়া যায়, তবে জনস্বাস্থ্যের ব্যাপক উন্নতি ঘটবে। এমনকি হাসপাতালের চিকিৎসকরা যদি প্রেসক্রিপশনে ওষুধের পাশাপাশি নির্দিষ্ট রোগের জন্য প্রয়োজনীয় যোগাসনের পরামর্শ দেন, তবে সাধারণ মানুষ দীর্ঘমেয়াদী সুফল পাবেন। প্রশাসনের এই সক্রিয়তা আগামী দিনে সাধারণ মানুষকে যোগাভ্যাসে আরও বেশি উৎসাহিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।