বিয়ের নামে ফুসলিয়ে এনে গৃহবন্দি, শিলিগুড়িতে আসামের তরুণীর রহস্যমৃত্যুতে রণক্ষেত্র শান্তিপাড়া!

বিয়ের নামে ফুসলিয়ে এনে গৃহবন্দি, শিলিগুড়িতে অসমের তরুণীর রহস্যমৃত্যুতে রণক্ষেত্র শান্তিপাড়া!

শিলিগুড়ি সংলগ্ন ফুলবাড়ির শান্তিপাড়ায় আসামের এক আদিবাসী তরুণীর চরম অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিয়ের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে ওই তরুণীকে নিয়ে এসে দীর্ঘ প্রায় তিন মাস ধরে গৃহবন্দি করে রাখার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এই রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই এলাকাটি রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে চড়াও হয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত বিশাল পুলিশ বাহিনী ও আধা সামরিক বাহিনীকে ঘটনাস্থলে নামতে হয়।

মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও নৃশংস বন্দিদশা

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত তরুণীর নাম জীবন্তি হেমব্রম (২৮)। তাঁর বাড়ি আসামের বঙ্গাইগাঁও এলাকায়। অভিযোগ, পেশায় রাজমিস্ত্রি ৪০ বছর বয়সী কাঞ্চু মিয়া প্রায় তিন মাস আগে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে জীবন্তিকে ফুলবাড়ির শান্তিপাড়ার নিজের বাড়িতে নিয়ে আসে। সেখানে তাঁকে বহিরাগতদের থেকে আড়ালে রেখে কার্যত বন্দি দশা কাটাত হতো। গত শুক্রবার বিকেলে আচমকাই কাঞ্চুর ঘর থেকে জীবন্তির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে এনজেপি থানার পুলিশ। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত কাঞ্চু মিয়াকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

অপরাধমূলক অতীত ও সম্ভাব্য সামাজিক প্রভাব

ঘটনার তদন্তে নেমে স্থানীয় সূত্রে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। অভিযুক্তের পরিবারের দাবি, কাঞ্চু ওই তরুণীকে লুকিয়ে রেখেছিল এবং পরিবারের কেউ বিষয়টি জানত না। এর আগেও কাঞ্চু তিনটি বিয়ে করেছিল, কিন্তু তার উগ্র চরিত্রের কারণে কোনো স্ত্রীই তার সঙ্গে থাকেনি। প্রতিবেশীদের অভিযোগ, কাঞ্চু এলাকায় অত্যন্ত উগ্র ও অপরাধপ্রবণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিল। বিয়ের নামে প্রতারণা এবং এভাবে তরুণীকে আটকে রেখে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার এই ঘটনাটি স্থানীয় স্তরে গভীর সামাজিক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। যথাযথ বিচার না হলে এই ধরনের অপরাধ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে শান্তিপাড়ার বাসিন্দারা একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *