ভূমিকম্পে কাঁপল উত্তর-পূর্ব ভারত, তীব্র আতঙ্ক ছড়াল কলকাতা থেকে শিলিগুড়িতেও!

উত্তর-পূর্ব ভারতের পাহাড়ি রাজ্য আসামে আঘাত হেনেছে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প। গত ৭ জুন রিখটার স্কেলে ৫.৩ মাত্রার এই জোরালো ভূকম্পনে কেঁপে ওঠে সমগ্র আসামসহ বিস্তীর্ণ এলাকা। এই কম্পনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে আসামের গণ্ডি ছাড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি এমনকি কলকাতাতেও ঝাঁকুনি অনুভূত হয়েছে। হঠাৎ এই জোরালো কম্পনে সামগ্রিক এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সীমানা ছাড়ানো কম্পন ও জনমানসে আতঙ্ক
ভারতের ভূকম্পন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল আসামের সীমান্তবর্তী পার্বত্য অঞ্চলের কাছাকাছি। পাহাড়ি এলাকায় কেন্দ্র হওয়ার কারণে কম্পনের তীব্রতা সমতলের চেয়ে অনেক বেশি অনুভূত হয়েছে। এই ভূকম্পনের ঝাঁকুনি শুধু ভারতের সীমানায় সীমাবদ্ধ ছিল না, প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভুটান, নেপাল এবং চিনের বেশ কিছু এলাকাতেও এই কম্পন সমানভাবে অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের তীব্রতা টের পাওয়ার পরপরই বহু মানুষ চরম আতঙ্কে ঘরবাড়ি ও বহুতল অফিস ছেড়ে খোলা রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। তবে স্বস্তির খবর এই যে, প্রশাসনের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী এখন পর্যন্ত কোথাও বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি বা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ঝুঁকিপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থান ও আফটারশকের আশঙ্কা
ভূবিজ্ঞানীদের মতে, ভৌগোলিক কাঠামোর দিক থেকে উত্তর-পূর্ব ভারত অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং উচ্চ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। মাটির নিচের টেকটোনিক প্লেটের ক্রমাগত নড়াচড়া ও আলোড়নের কারণে আসাম ও সংলগ্ন এলাকায় এ ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। এই দুর্যোগের পরপরই স্থানীয় প্রশাসন ও বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর সার্বিক পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে পরবর্তী সম্ভাব্য আফটারশক বা অনুকম্পনের বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে।