বিধানসভার পর এবার সংসদে ভাঙন! মমতার হাতছাড়া হতে পারে জোড়াফুল

বিধানসভার পর এবার সংসদে ভাঙন! মমতার হাতছাড়া হতে পারে জোড়াফুল

বিধানসভা নির্বাচনে ব্যাপক বিপর্যয়ের পর এবার সংসদেও চরম ভাঙনের মুখে পড়ল তৃণমূল কংগ্রেস। লোকসভার ২৮ জন তৃণমূল সাংসদের মধ্যে ২০ জনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছেড়ে বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন। কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং শতাব্দী রায়ের নেতৃত্বাধীন এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী ইতিমধ্যেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। এই টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই সুখেন্দুশেখর রায় এবং কোয়েল মল্লিকের মতো রাজ্যসভার দুই সাংসদের পদত্যাগ দলের অন্দরের ফাটলকে আরও চওড়া করেছে।

নেপথ্যে নির্বাচন বিপর্যয় ও বিজেপির ছায়া

এই চরম রাজনৈতিক সংকটের মূল কারণ হিসেবে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবিকেই চিহ্নিত করছেন বিশ্লেষকরা। গত ৩ জুন ৫৮ জন বিধায়কের বিদ্রোহের ঠিক এক মাসের মাথায় লোকসভার সাংসদদের এই দলত্যাগের ঘটনা ঘটল। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, দিল্লিতে বিদ্রোহী সাংসদদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে। সেখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিও এই ভাঙনের নেপথ্যে বিজেপির প্রচ্ছন্ন ইন্ধনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ দাবি করেছেন। অন্যদিকে, বিধানসভার বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভার সাংসদদের এই পদক্ষেপের সঙ্গে নিজেদের দূরত্বের কথা জানিয়েছেন।

কী হতে পারে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ?

পরিষদীয় ও সংসদীয় দলে এই জোড়া ধাক্কার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে তৃণমূলের কাঠামোগত অস্তিত্বের ওপর। ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাস এবং সম্প্রতি মহারাষ্ট্রে শিবসেনা বা এনসিপি-র মতো দলে ভাঙনের উদাহরণ থেকে স্পষ্ট, সংখ্যাগরিষ্ঠ জনপ্রতিনিধির সমর্থন হারালে দলের নাম ও প্রতীক বেহাত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়। বিদ্রোহী গোষ্ঠী যদি সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী রায়কে হাতিয়ার করে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়, তবে একনাথ শিন্ডে বা অজিত পওয়ারের মতোই তাঁরা ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে আইনি স্বীকৃতি পেতে পারেন। সে ক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর নিজের হাতে গড়া দলের নাম এবং চিরপরিচিত ‘জোড়াফুল’ প্রতীক চিরতরে হারাতে হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *