হাতছাড়া হল ছোট লালবাড়ি, কলকাতার পুরবোর্ড ভেঙে প্রশাসক বসাল রাজ্য!

কলকাতা পুরসভার পুরবোর্ড ভেঙে দিল রাজ্য সরকার। কলকাতার মেয়র পদ থেকে ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফার পর পরবর্তী মেয়রের নাম চূড়ান্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এর জেরে সোমবার এক নির্দেশিকা জারি করে পুরবোর্ড ভেঙে দিয়ে পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। ফলে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ‘ছোট লালবাড়ি’র নিয়ন্ত্রণ আপাতত আমলাতন্ত্রের হাতে চলে গেল।
আইনি পদক্ষেপ ও মেয়রের নাম বাছাইয়ে ব্যর্থতা
গত শুক্রবার ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগের পরপরই রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের পক্ষ থেকে একটি নোটিস জারি করা হয়েছিল। সেখানে জানতে চাওয়া হয়েছিল, মেয়রের ইস্তফার পর কেন পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়া হবে না এবং সোমবারের মধ্যে নতুন মেয়রের নাম জানাতে বলা হয়েছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পুরসভার পক্ষ থেকে কোনো নাম জমা না পড়ায় সরকার এই পদক্ষেপ নেয়। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১৯৮০ সালের কলকাতা পুরসভা আইনের ১১৭(১) ধারা অনুযায়ী, পুরসভা নাগরিক পরিষেবা ও স্বাভাবিক কাজকর্ম পরিচালনায় ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কায় এই বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আগামী ১৯ জুনের নির্ধারিত পুর অধিবেশনও বাতিল করা হয়েছে।
তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক সূত্রের খবর, দলের অভ্যন্তরীণ তীব্র কোন্দল এবং সমন্বয়ের অভাবই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। খাতায়-কলমে কলকাতায় তৃণমূলের ১৩৬ জন কাউন্সিলর থাকলেও, বিভিন্ন অভিযোগে ইতিমধ্যে আট জন কাউন্সিলর গ্রেফতার হয়েছেন। পাশাপাশি বহু কাউন্সিলর দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে ‘বেসুরো’ হয়ে উঠেছেন এবং কেউ কেউ বরো চেয়ারম্যানের পদও ছেড়েছেন। নতুন মেয়র নির্বাচনের লক্ষ্যে রবিবার দলনেত্রীর একটি বৈঠক ডাকার কথা থাকলেও অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ ও কম উপস্থিতির আশঙ্কায় শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করা হয়। এই রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে কলকাতার নাগরিকদের দৈনিক পুর পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে, নির্বাচিত বোর্ডের পরিবর্তে আমলাতান্ত্রিক প্রশাসকের হাতে শাসনভার যাওয়ায় শহরের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নমূলক কাজ থমকে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।